ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে পারছেন না, এমন তথ্য কিয়েভের শীর্ষ উপদেষ্টা মিখাইল পোডোলিয়াক রোজকারে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটের ঘাটতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মৌলিক খরচগুলোকে অপ্রাপ্য করে তুলেছে।
পোডোলিয়াকের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বাচনী কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের সামরিক শক্তি বাড়ানোর কাজকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও রক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি।
এদিকে, জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার সূচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করে, দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
জেলেনস্কি আরও প্রকাশ করেছেন যে, আগামী রবিবার ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বৈঠকটি রাশিয়ার সঙ্গে চলমান চার বছরের সংঘাতের সমাপ্তি লক্ষ করে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে হবে।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, এই বৈঠক থেকে একটি দৃঢ় এবং চূড়ান্ত চুক্তি বের হবে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষই আলোচনাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছে।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পূর্বে, তিনি সামাজিক মাধ্যমে X-এ লিখে ছিলেন যে, নতুন বছরের আগে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে। এই প্রকাশনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধের দীর্ঘায়ু ইউক্রেনের অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে; অবকাঠামো ধ্বংস, শিল্প উৎপাদন হ্রাস এবং আর্থিক সম্পদের সংকোচন দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। তাই আর্থিক ঘাটতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের বিলম্ব দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের অনুপস্থিতি সরকারী বৈধতা ও জনমত সমর্থনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার সময় অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও ট্রাম্পের সরকারে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনিশ্চিত, তবে উভয় দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানোর লক্ষ্য স্পষ্ট।
বৈঠকের ফলাফল নির্ভর করবে উভয় পক্ষের সমঝোতার ইচ্ছা ও শর্তের উপর। যদি কোনো চুক্তি অর্জিত হয়, তা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি, বন্দী বিনিময় এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অন্যথায়, আলোচনার পুনরাবৃত্তি এবং অতিরিক্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
পরবর্তী সময়ে জেলেনস্কি ও তার দলকে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় রাখতে হবে। একই সঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করে, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।



