ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কীর্স স্টার্মার শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে ইজিপ্ট-ব্রিটিশ কর্মী ও ব্লগার আলা আবদেল-ফাত্তা, যিনি প্রায় বারো বছর রাজনৈতিক বন্দিত্বের পর মুক্তি পেয়েছেন, লন্ডনে পৌঁছেছেন। তার ফিরে আসা আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে এবং যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টার্মার এই ঘটনার ওপর গভীর স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আলার পরিবার এবং যারা দীর্ঘদিন তার মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান। তিনি যুক্তরাজ্যের শাসনকালে আলার মামলাকে শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলা সেপ্টেম্বর মাসে ইজিপ্টের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ এল-সিসি দ্বারা দয়া করে মুক্তি পেয়েছিলেন, যা বছরের পর বছর চলা ক্ষুধা-হত্যা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার আহ্বানের পর ঘটেছিল। মোট ছয়জন বন্দীকে এই বছর দয়া করে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
মুক্তির পর সিসি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে স্টার্মার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নীতি ও ইজিপ্টের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলা ২০১১ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারাকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময় প্রথমবার গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সিসির কঠোর নীতি ও শাসনের তীব্র সমালোচক হয়ে ওঠেন।
২০১৪ সালে তাকে মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগে পনেরো বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে অস্থায়ী মুক্তি পেয়ে একই বছর আর পাঁচ বছরের দণ্ড আরোপিত হয়। এই শৃঙ্খলাবদ্ধ সাজা তার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দমনকে নির্দেশ করে।
ইজিপ্টের সরকার রাজনৈতিক বন্দী নেই বলে দাবি করে এবং সক্রিয় কর্মীদের আইন লঙ্ঘনের জন্যই কারাবাসের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে ইজিপ্টের দমন নীতি সমালোচনা করে আসছে।
মুক্তির পরেও আলা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন, যা তাকে ইজিপ্ট ছাড়তে বাধা দিত। তবে শুক্রবার সকালে তিনি টুইটার-সদৃশ প্ল্যাটফর্মে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে জানান, তিনি দেশে থেকে প্রস্থান করছেন এবং লন্ডনে পৌঁছেছেন।
ব্রিটিশ সরকার পূর্বে আলার কারাগার অবস্থার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তার মুক্তির আহ্বান জানায়। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইজিপ্টের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে কিছু সমালোচক যুক্তি দেন যে যুক্তরাজ্য যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করেনি।
আলার মা লায়লা সউইফ শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, আলা নিরাপদে লন্ডনে পৌঁছেছেন এবং ঈশ্বরের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই বার্তা তার পরিবারের জন্য এক ধরনের স্বস্তি ও আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আলার ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নীতি ও ইজিপ্টের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে নতুন আলো ফেলতে পারে। স্টার্মার সরকার তার পরবর্তী পদক্ষেপে ইজিপ্টের রাজনৈতিক দমন নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইজিপ্টের অভ্যন্তরে এই ঘটনা সরকারের মানবাধিকার রেকর্ডের উপর চাপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দমনমূলক নীতির ওপর বাড়ছে। আলার মত উচ্চপ্রোফাইল কর্মীর মুক্তি ও নিরাপদে ফিরে আসা এই চাপকে তীব্র করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আলা আবদেল-ফাত্তার লন্ডনে পৌঁছানো কেবল এক ব্যক্তিগত মুক্তি নয়, বরং মানবাধিকার, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ



