ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে প্যালেস্টাইনি সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু ও আঘাতের রেকর্ড স্থাপন করেছে, যা প্রেসের স্বাধীনতা নীতি ভঙ্গের স্পষ্ট উদাহরণ। প্যালেস্টাইনি সাংবাদিক ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটি এই ঘটনাকে ‘হত্যা, আঘাত ও স্থায়ী অক্ষমতার মাধ্যমে প্রেস দমন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইসরায়েলি দখলকৃত অঞ্চলে অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সহিংসতা, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইউনিয়ন জানিয়েছে। এই সময়কালে সাংবাদিকদের কাজের ওপর সীমাবদ্ধতা থেকে সরাসরি প্রাণঘাতী আক্রমণে রূপান্তর ঘটেছে, যার লক্ষ্য সাক্ষীকে নীরব করা এবং সংঘর্ষের নথিপত্র ধ্বংস করা।
ফ্রিডমস কমিটির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নীতি এখন সাংবাদিকদের ‘সম্ভাব্য লক্ষ্য’ থেকে ‘নিশ্চিত ও ঘন ঘন লক্ষ্য’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক অপরাধের সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানবাধিকার সংস্থার নজরে এসেছে।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জন প্যালেস্টাইনি সাংবাদিক নিহত বা আহত হয়েছে। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যভিত্তিক নীতি চালু করার ইঙ্গিত দেয়।
গত বছর গাজায় একাধিক সাংবাদিকের লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে আল জাজিরার অনস আল-শারিফের হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে হামাসের সদস্য বলে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়, যদিও কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এই আক্রমণগুলোর পরেও কোনো ইসরায়েলি সৈনিককে গ্রেফতার বা আইনি দায়িত্বে আনা হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও প্রেস ফ্রিডম গ্রুপের অভিযোগের পরেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দায়িত্ব স্বীকার করা হয়নি, যা ইম্পিউনিটি বাড়িয়ে তুলেছে।
দুই দশকেরও বেশি সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে আরব সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২২ সালে পশ্চিম তীরে আল জাজিরার প্রবীণ প্রতিবেদক শিরিন আবু আক্লেহের হত্যাকাণ্ডও এই ধারার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সিন্ডিকেটের ফ্রিডমস কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আল-লাহহাম বলেছেন, এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলোকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি সুরক্ষিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণ, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক গোষ্ঠী ইসরায়েলি নীতির কঠোর নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করা হতে পারে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।



