অভিনেতা টিমোথি শালামেট ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবিতে পিং পং হাস্টলার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এই কাজটি তাকে তৃতীয় অস্কার প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কারণ ছবিটি ইতিমধ্যে শিল্প সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শালামেটের পূর্বের অভিনয় প্রস্তুতি সবসময়ই গভীরভাবে গবেষণার ওপর নির্ভরশীল। ২০১৭ সালের ‘কল মি বাই ইউর নেম’ ছবিতে তিনি ইতালীয় ভাষা শিখেছিলেন এবং পিয়ানো ও গিটার বাজানো শিখেছিলেন। পরের বছর ‘বব ডিলান: এ কমপ্লিট আননোন’ চরিত্রে গিটার, হরমোনিকা এবং গায়ের প্রশিক্ষণ নেন, যা দুটো অস্কার নোমিনেশন অর্জনে সহায়তা করেছে।
‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবিতে শালামেটের চরিত্রটি পিং পং হাস্টলার, যার স্বপ্ন বড় কিছু অর্জনের। এই ভূমিকায় সফল হতে তাকে কেবল অভিনয় নয়, টেবিল টেনিসের উচ্চমানের দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। তাই তিনি গোপনে বহু বছর ধরে প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছেন, যদিও এই সময়ে তিনি ‘দ্য ফ্রেঞ্চ ডিসপ্যাচ’, ‘ওনকা’ এবং ‘ডিউন: পার্ট টু’ মত বড় প্রকল্পে কাজ করছিলেন।
চলচ্চিত্রের টেবিল টেনিস পরামর্শদাতা ডিয়েগো শাাফের মতে, শালামেটের এই প্রশিক্ষণ পিং পং খেলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে। তিনি আশা করছেন যে চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযান এই ক্রীড়াটিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেবে এবং তার উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ডিয়েগো শাাফ সুইজারল্যান্ডে বড় হয়েছেন এবং ছোটবেলা থেকেই টেবিল টেনিস খেলেছেন, যদিও তিনি কখনো পেশাদার স্তরে প্রতিযোগিতা করেননি। তার অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানই শালামেটের প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শালামেটের গোপন প্রশিক্ষণ বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত ছিল। তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে টেবিল টেনিসের মৌলিক স্ট্রোক এবং পজিশনিং অনুশীলন করতেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে ছবির রিহার্সালের সময় শাাফের কাছে চমকপ্রদ দক্ষতা প্রদর্শন করতে সক্ষম করেছে।
রিহার্সালের প্রথম দিনেই শাাফ শালামেটের স্ট্রোকের সঠিকতা এবং গতি দেখে মুগ্ধ হন। শাাফের পূর্বের কাজের তালিকায় ‘ফরেস্ট গাম্প’ (১৯৯৪), ‘বোলস অফ ফিউরি’ (২০০৭) এবং এনবিসি’র ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের একটি পর্ব অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে স্পোর্টস-সংশ্লিষ্ট দৃশ্যের পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ করে তুলেছে।
শাাফের স্ত্রী, ওয়েই ওয়াং, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি শালামেটকে শটের সুনির্দিষ্টতা এবং পা-চলনের সমন্বয় বাড়াতে সহায়তা করেন, ফলে তার পারফরম্যান্স আরও নিখুঁত হয়।
প্রশিক্ষণের সময় শাাফ এবং ওয়াং দুজনেই উল্লেখ করেন যে, ছবির সময়কাল ১৯৫০-এর দশক, তাই আধুনিক পদ্ধতি থেকে ভিন্নভাবে স্ট্রোকের মেকানিক্স পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। তারা শালামেটকে ঐ সময়ের শৈলীর পিং পং কৌশল শিখিয়ে, আধুনিক গতি ও শক্তি ব্যবহার না করে ঐতিহ্যবাহী রিদমে কাজ করতে নির্দেশ দেন।
শালামেটের নৃত্য পটভূমি এই পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে। নাচের প্রশিক্ষণ তাকে শরীরের ভারসাম্য এবং দ্রুত গতিবিধি বুঝতে সাহায্য করেছে, ফলে তিনি ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছেন।
‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবির পরিচালক জোশ সাফডি ১৯৫০-এর নিউ ইয়র্কের পিং পং দৃশ্যগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। তাই শালামেটকে ঐ যুগের টেবিল টেনিসের শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অভিনয় করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে।
শালামেটের এই নিবেদন এবং শাাফের প্রযুক্তিগত নির্দেশনা মিলিয়ে ছবির পিং পং দৃশ্যগুলোকে সত্যিকারের শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করেছে। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে পিং পং খেলায় নতুন আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পারে, যা ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে।



