টিহার জেলে বন্দী সুকেশ চন্দ্রশেখর, যিনি ২০১৫ সালে বহু কোটি টাকার এক্সটর্সন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, ক্রিসমাসের দিন জ্যাকলিন ফার্নান্দেসকে একটি অপ্রত্যাশিত উপহার পাঠিয়েছেন। তিনি ২৫ ডিসেম্বর তারিখের হাতে লেখা চিঠিতে অভিনেত্রীকে “বেবি গার্ল” বলে সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানিয়ে, দূরত্বের পরেও তাকে সান্তা ক্লজের ভূমিকা পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি তার জন্য একটি সম্পূর্ণ ভিনইয়ার্ড, যা দক্ষিণ ফ্রান্সে অবস্থিত এবং ১০৭ বছর পুরনো, উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছেন।
সুকেশের চিঠিতে উপহারের বিশদ বর্ণনা রয়েছে; তিনি বলেন যে তিনি জ্যাকলিনকে কোনো একক বোতল নয়, পুরো বাগানই দিচ্ছেন, যা তিনি “প্রেমের দেশ” ফ্রান্সে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে একসাথে ভিনইয়ার্ডে হাঁটতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, হাত ধরে বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করার কথা বলেছেন। এই অস্বাভাবিক প্রকাশনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার হয়।
চিঠিটি সামাজিক নেটওয়ার্কে ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। কিছু ব্যবহারকারী সুকেশের এই কাজকে অদ্ভুত ও অপ্রাসঙ্গিক বলে সমালোচনা করেন, আবার অন্যরা তার অবিচল প্রেমের প্রকাশে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে জ্যাকলিন ফার্নান্দেস এই চিঠি বা উপহার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি এবং কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রী জ্যাকলিনের পূর্বে প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, তিনি সুকেশকে তার অপরাধের শিকার হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সুকেশ তাকে ব্যবসায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সময় তিনি ধোঁকা খেয়েছেন। এই ঘটনার আগে তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে নিজেকে “শিকার” বলে বর্ণনা করেছেন এবং সুকেশের সঙ্গে তার কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে বলেছেন।
সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক পটভূমি ২০১৫ সালে শুরু হয়, যখন তাকে বহু কোটি টাকার এক্সটর্সন মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি টিহার জেলে বন্দি রয়েছেন এবং বিভিন্ন আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তের মুখে আছেন। তার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দ্বারা পরিচালিত তদন্তে জ্যাকলিনের নামও উঠে আসে, কারণ সুকেশের কিছু ফটো এবং সম্পর্কের দাবি লিক হয়ে যায়।
ইডি তদন্তের সময় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের কোনো বৈধ ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সংযোগ নেই। তবে লিক হওয়া ছবি এবং চিঠি তাকে জড়িয়ে তুলেছে, যার ফলে মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। জ্যাকলিনের আইনজীবী দল এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তিনি সুকেশের প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির শিকার এবং তার কোনো স্বেচ্ছা স্বীকৃতি নেই।
সুকেশের বর্তমান অবস্থান টিহার জেলে, যেখানে তিনি এখনও আটক আছেন। তার অপরাধের শাস্তি এখনও চলমান, এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে। এই সময়ে তিনি যে ক্রিসমাস উপহার পাঠিয়েছেন, তা তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো আইনি সংযোগ নেই, তবে জনমতকে উস্কে দিয়েছে।
ফরাসি ভিনইয়ার্ডের বয়স ১০৭ বছর, যা তার ঐতিহাসিক মূল্য ও ভিন উৎপাদনের গুণগত মানের জন্য পরিচিত। তবে সুকেশের এই উপহার বাস্তবে কীভাবে হস্তান্তর করা হবে বা জ্যাকলিনের তা গ্রহণের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। উপহারের আইনি দিক এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে; কেউ কেউ সুকেশের এই অপ্রত্যাশিত উপহারকে রোমান্টিক ইশারা হিসেবে দেখেন, আবার অন্যরা এটিকে মানসিক চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, কারাবন্দী অপরাধীর এমন বড় ধরনের উপহার পাঠানো আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে জটিল হতে পারে এবং তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
জ্যাকলিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য না আসায়, মিডিয়া ও জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি পূর্বে যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, সেগুলো পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আইনগত বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, কারাবন্দী অপরাধীর দ্বারা করা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকতে পারে। তাই সুকেশের এই উপহারটি বাস্তবে কার্যকর হবে কিনা, তা ভবিষ্যতে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
সারসংক্ষেপে, টিহার জেলে বন্দী সুকেশ চন্দ্রশেখর জ্যাকলিন ফার্নান্দেসকে ক্রিসমাসে ১০৭ বছর পুরনো ফরাসি ভিনইয়ার্ড উপহার পাঠিয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যদিও উপহারের বাস্তবায়ন ও জ্যাকলিনের প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত, এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



