মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে মোট ২০টি উইকেট পড়েছে, যা ১৯০৯ সালের পর থেকে প্রথম দিনেই এতো বেশি উইকেটের রেকর্ড ভাঙেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পেসাররা উভয়ই পিচের অতিরিক্ত ঘাস ও তীব্র বাউন্সের সুবিধা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বলের সিম মুভমেন্ট তৈরি করেছে।
পিচ প্রস্তুতকারক ম্যাট পেজ বলেছিলেন, এই ম্যাচের জন্য পিচে ১০ মিলিমিটার ঘাস রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিন মিলিমিটার বেশি। ঘাসের এই অতিরিক্ত স্তর ও পিচের স্বাভাবিক বাউন্সের সমন্বয় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন শর্ত তৈরি করেছে, ফলে উভয় দলে ব্যাটিংয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৫২ রানের লক্ষ্যপূরণে ব্যাটসম্যানরা মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছে। পিচের অপ্রত্যাশিত গতিবিধি ও বাউন্সের কারণে শটগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকা স্পষ্ট ছিল, ফলে দ্রুত উইকেটের ধারাবাহিকতা ঘটেছে।
মোট ২০টি উইকেটের পতন ১৯০৯ সালের পর প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে এতো বেশি হয়েছে, আর এই সিরিজের প্রথম টেস্টে পার্থের প্রথম দিনে ১৯টি উইকেট পড়ে ছিল। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ফলাফলটি উল্লেখযোগ্য, কারণ এ ধরনের উচ্চ সংখ্যক উইকেটের পতন সাধারণত পিচের অতিরিক্ত সহায়তা নির্দেশ করে।
প্রাক্তন ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড, অ্যালেস্টার কুক এবং মাইকেল ভন উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের পিচে ব্যাটসম্যানদের জন্য ন্যায়সঙ্গত শর্ত তৈরি করা কঠিন। তাদের মতে, পিচের ভূমিকা অতিরিক্ত এবং পেসারদের জন্য অতিরিক্ত মুভমেন্টের প্রয়োজন নেই; স্বাভাবিক বাউন্সই যথেষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা ও ব্রেট লি মন্তব্যে বলেছেন, পিচে ঘাসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করা সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যোগ করেন, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এমন পিচে বোলারদের আধিপত্য স্বাভাবিক, তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য সুযোগ কমে যায়।
বাটিংয়ে কঠিন শর্তের ফলে দুই দলেরই বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সীমিত সংখ্যক ডেলিভারি খেলতে পেরেছেন। শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার উসমান খাওয়াজা ৫২টি ডেলিভারিতে ৫২ রান করে সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন, আর ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যান ৪০ ডেলিভারিরও বেশি খেলতে পারেননি।
উসমান খাওয়াজার ৫২ রান টেস্টের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, যা পিচের কঠিনতা সত্ত্বেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। তার পারফরম্যান্স পিচের চ্যালেঞ্জের মাঝেও কিছু ব্যাটসম্যানের টেকসইতা প্রকাশ করে।
ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ৪১ রান করে দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর রেকর্ড করেছেন, তবে তার ইনিংসও পিচের অপ্রত্যাশিত বাউন্স ও সিমের কারণে সীমিত রয়ে গেছে। তার পারফরম্যান্স পিচের কঠিনতা সত্ত্বেও কিছুটা প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেয়।
পিচের বর্তমান অবস্থা এবং উভয় দলে ব্যাটিংয়ের সমস্যার কারণে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পিচের অতিরিক্ত ঘাস ও বাউন্সের প্রভাবের কথা বিবেচনা করে, পঞ্চম দিন পর্যন্ত ম্যাচটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।
এই টেস্টটি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ অ্যাশেস টেস্ট, যেখানে অস্ট্রেলিয়া পূর্বে ভারতের বিপক্ষে পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে জয় অর্জন করেছিল। তবে এই সিরিজের প্রথম টেস্টে পিচের সমস্যার কারণে দ্রুত ফলাফল দেখা গিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মেলবোর্নের এই পিচে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন শর্ত তৈরি হয়েছে, যা প্রথম দিনে ২০টি উইকেটের রেকর্ডে পরিণত হয়েছে। পিচের অতিরিক্ত ঘাস, বাউন্স এবং সিম মুভমেন্টের সমন্বয় বোলারদের জন্য সুবিধা এনে দিয়েছে, আর ব্যাটসম্যানদের জন্য সুযোগ সীমিত করেছে। ভবিষ্যতে পিচের প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



