গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ দুই নেতা, রাশেদ খান ধান এবং নুরুল হক নুর, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়। উভয় নেতা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটের জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তটি ফেসবুকের একটি পোস্টের মাধ্যমে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পোস্টে দলীয় কৌশলগত পরিকল্পনা হিসেবে ভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা ভোটারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাশেদ খান ধান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি পূর্বে এই অঞ্চলে পার্টির কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং শীষের প্রতীককে কৃষক ও গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন।
অন্যদিকে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ প্রতীকে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ট্রাকের প্রতীককে বাণিজ্যিক ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ঐ এলাকার ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে দলীয় নেতৃত্বের ধারণা।
দলীয় কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হল দুটি ভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচনী জায়গায় জোটের সমন্বয় ও সংগঠনগত শক্তি বৃদ্ধি করা। এই পদ্ধতি ভোটারদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।
গণঅধিকার পরিষদের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সত্ত্বেও উভয় নেতা একসাথে ভোটারদের কাছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেবেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই কৌশল ভোটারদের মধ্যে পার্টির উপস্থিতি ও স্বীকৃতি বাড়াবে।
বিপক্ষের কিছু নেতা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সমন্বয়ের নতুন রূপ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, একই সময়ে ভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ভোটারদের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গণঅধিকার পরিষদের এই কৌশল ভোটারদের মধ্যে পার্টির পরিচয়কে ছড়িয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে বিভাজনও ঘটাতে পারে। তাই তারা এই পদক্ষেপকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গণঅধিকার পরিষদ আশা করে, ভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তাবনা আরও বিস্তৃত হবে এবং ভোটারদের মধ্যে পার্টির নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। উভয় নেতা একে অপরের প্রচারণা কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়ে, সমন্বিতভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলটি এখন থেকে নির্বাচনী প্রচার, ভোটার সমাবেশ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। উভয় প্রার্থী তাদের নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য র rally এবং সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে এই কৌশলটি অন্যান্য দলগুলোর কৌশলগত পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল ভোটারদের কাছে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ বার্তা পৌঁছানো, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ে।
পরবর্তী সময়ে দলটি নির্বাচনী তালিকা চূড়ান্ত করে, প্রচারমূলক উপকরণ প্রস্তুত করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে। এই ধারাবাহিক কৌশল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন অর্জনে এবং নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



