নিউ ইস্কাটন এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে ২৪ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার মারা যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের প্রধান আলী আকবর মজুমদার, যিনি রিকশা চালান, পরের দিন হাতিরঝিল থানা-তে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সিয়াম ও তার ছোট ভাই সেজান মজুমদার দুজনেই ইস্কাটন এলাকার দুটি মোটর পার্টস ডেকোরেশন শপে কাজ করতেন। তাদের মা সিজু বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মে যুক্ত ছিলেন। চারজনের এই পরিবার প্রায় চার বছর আগে খুলনা জেলার দিঘলিয়া, দেবনগর গ্রাম থেকে ঋণমুক্তির আশায় ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
আলীর রিকশা চালনা ও সিজুর গৃহকর্মের পাশাপাশি সিয়াম ও সেজান শৈল্পিক কাজের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক বোঝা কমাতে চেষ্টা করছিলেন। তবে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটার পর সিয়ামের মৃত্যুর ফলে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে দুগ্ধময় অবস্থায় পড়ে।
বিস্ফোরণ ঘটার সময় ককটেলটি ফ্লাইওভার থেকে নিক্ষিপ্ত হয় এবং নিচের রাস্তায় পৌঁছে তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হয়। সিয়ামকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পথচারী ও গাড়ি চালকরা তৎকালীন আতঙ্কে পালিয়ে যায়।
হাতিরঝিল থানা-র তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং ককটেল নিক্ষেপের পেছনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য তদন্ত চালু করেন। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন বা গ্রেপ্তার করা ব্যক্তি সনাক্ত করা যায়নি, তাই মামলায় অভিযুক্তদের নাম অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলী আকবর মজুমদার মামলায় উল্লেখ করেন যে, পরিবারটি ঋণমুক্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিল এবং এই হঠাৎ ঘটনার ফলে তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেন যেন দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের মতে, ককটেল নিক্ষেপের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা গ্যাং সংক্রান্ত প্রেরণা থাকতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন। তদন্তে ফ্লাইওভার ক্যামেরা রেকর্ড, সাক্ষী বিবৃতি ও ফোর্স ফিল্ডের ফোরেনসিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মামলার পরবর্তী শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে পুলিশ ও থানা-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দ্রুত শেষ করে আদালতে দাখিল করা হবে। পরিবারটি এই প্রক্রিয়ায় আইনগত সহায়তা ও মানসিক সমর্থনের জন্য স্থানীয় এনজিও ও সামাজিক সংস্থার সাহায্য চেয়েছে।
এই ঘটনার পর নিউ ইস্কাটন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফ্লাইওভার ও আশেপাশের রাস্তার নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন, জনসাধারণকে সতর্কতা জানানো এবং অপ্রয়োজনীয় বস্তু নিক্ষেপে কঠোর শাস্তি আরোপের কথা বলা হয়েছে।
সিয়াম মজুমদার পরিবারের এই দুঃখজনক ক্ষতি সমাজে নিন্দার বিষয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।



