চট্টগ্রাম রয়্যালস সিলেটের নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপরীতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে দুইজন বিদেশি খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) এর ন্যূনতম শর্ত পূরণ করে সম্ভাব্য বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে গেল। দলটি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শুরুর দিনেই নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
রয়্যালসের নির্বাচিত বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটসম্যান মিরজা তাহির বায়গ এবং আফগানিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মাসুদ গুরবাজ অন্তর্ভুক্ত। উভয়ই টিমের ব্যাটিং শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের উপস্থিতি দলকে বিদেশি খেলোয়াড়ের ন্যূনতম দুইজনের শর্ত পূরণে সক্ষম করেছে।
বিপিএল ১২ নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে যে প্রতিটি ম্যাচে দলকে কমপক্ষে দুইজন এবং সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে রাখতে হবে। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল বিদেশি প্রতিভার সঙ্গে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটিয়ে লিগের প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখা। চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পদক্ষেপ নিয়মের স্পষ্ট অনুসরণকে নির্দেশ করে।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একদিন আগে দলটির মালিকানা গ্রহণের পর দলটি বিদেশি খেলোয়াড় আনার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের মুখে পড়ে। মালিকানা পরিবর্তনের ফলে তৎকালীন পরিকল্পনা ও বাজেটের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়, যা কিছু সময়ের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়ের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
মালিকানা পরিবর্তনের পেছনে ছিল ত্রিভুজ সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রত্যাহার, যা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজের অধিকার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রত্যাহার দলটির পরিচালনায় অস্থিরতা নিয়ে আসে এবং বিদেশি খেলোয়াড়ের নিয়োগে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচগুলির জন্য অতিরিক্ত বিদেশি খেলোয়াড়ের সন্ধান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দুইজন বিদেশি খেলোয়াড়ের পাশাপাশি আরও দুইজন পর্যন্ত যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দলটি পূর্ণ বিদেশি কোটা ব্যবহার করে শক্তিশালী সংযোজন করতে পারে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় কারণ গত মৌসুমে দরবার রাজশাহী দলকে বিদেশি খেলোয়াড়ের অর্থপ্রদানের সমস্যার কারণে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া খেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই সময়ে দলটি রঙিন রাইডারসের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল, যা লিগের গুণগত মানের প্রশ্ন তুলেছিল।
বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটি তখন ধারার ১.২.৮ অনুসারে ‘বৈধ কারণ’ থাকলে দলকে সম্পূর্ণ স্থানীয় এক্সি খেলতে অনুমতি দেয়। তবে এই ব্যতিক্রমের ব্যবহার সীমিত এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ, যা এই সিজনে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য প্রযোজ্য নয়।
অন্যদিকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস পুরো কোটা ব্যবহার করে চারজন বিদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে রাখে। তাদের তালিকায় রয়েছে মাজ সাদাকাত, হায়দার আলি, জাহির খান এবং ইহসানুল্লাহ। পুরো কোটা ব্যবহার করে দলটি আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
সিলেটের আরেকটি উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং সিলেট টাইটানসের মধ্যে আটজন বিদেশি খেলোয়াড়ের পূর্ণ কোটা ব্যবহার করা হয়। এই ম্যাচে উভয় দলই বিদেশি খেলোয়াড়ের সম্পূর্ণ সুবিধা নিয়ে খেলায় প্রবেশ করে, যা বিপিএল-এর আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার নীতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়িয়ে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী উপস্থিতি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছে। দলীয় ব্যবস্থাপনা আশা করে যে এই পদক্ষেপগুলো দলকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তি বিপিএল নিয়মের সঠিক অনুসরণ এবং দলীয় কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতিফলন। এই পদক্ষেপ দলকে সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেছে।



