20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্য২০২৫ সালে হান্টিংটন রোগের অগ্রগতি, জিন থেরাপি শিশুর জীবন রক্ষা ও শিংলস...

২০২৫ সালে হান্টিংটন রোগের অগ্রগতি, জিন থেরাপি শিশুর জীবন রক্ষা ও শিংলস টিকায় ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাস

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিকেল গবেষণার তহবিল ও কর্মসংস্থানে কাটছাঁটের পরও বিজ্ঞানীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন। হান্টিংটন রোগের অগ্রগতি ধীর করা, একটি শিশুর জন্য ব্যক্তিগতকৃত জিন থেরাপি সফল করা এবং শিংলস টিকার মাধ্যমে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা এই বছরের প্রধান বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে উঠে এসেছে।

ফেডারেল বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের মাঝেও গবেষক দলগুলো নতুন পদ্ধতি অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতি বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের দৃঢ়সংকল্পকে তুলে ধরেছে এবং রোগীর জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলা ফলাফলকে সম্ভব করেছে।

হান্টিংটন রোগ একটি অগ্রগামী স্নায়বিক ব্যাধি, যা রোগীর চলাচল ও স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণকে ধ্বংস করে। রোগীর মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকলগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে যায়, যা রোগের অগ্রগতির স্পষ্ট চিহ্ন। বর্তমানে কোনো চূড়ান্ত চিকিৎসা না থাকলেও, গবেষকরা একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের মাধ্যমে আশার আলো দেখিয়েছেন।

এই ওষুধটি একটি পরিবর্তিত ভাইরাসের মাধ্যমে ছোট RNA অণু মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়, যা রোগজনিত প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করে। ক্লিনিকাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগের অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়েছে। রোগীর দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা ও জীবনমানের উন্নতি এই ফলাফলের প্রধান সূচক।

হান্টিংটন রোগে এই অগ্রগতি রোগী ও তাদের পরিবারকে নতুন আশা দেয়, যদিও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও পর্যবেক্ষণাধীন। গবেষকরা ভবিষ্যতে বৃহত্তর রোগী গোষ্ঠীর উপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।

একই বছর, জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি নবজাতকের জীবন রক্ষা করা হয়েছে। কেজে নামের শিশুটি একটি বিরল জেনেটিক ত্রুটির কারণে রক্তে অ্যামোনিয়া স্তর বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, যা দ্রুত মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

বৈজ্ঞানিক দল CRISPR‑ভিত্তিক থেরাপি ব্যবহার করে শিশুর নির্দিষ্ট জিনে থাকা ত্রুটি মুছে ফেলেছে এবং সঠিক জিনের কপি যুক্ত করেছে। এই ব্যক্তিগতকৃত জিন থেরাপি প্রথমবারের মতো রোগীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং এখন শিশুটি হাঁটা শুরু করেছে, যা চিকিৎসার সাফল্যের স্পষ্ট প্রমাণ।

এই থেরাপি ভবিষ্যতে বিরল জেনেটিক রোগের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। গবেষকরা ইতিমধ্যে একটি বৃহত্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিকল্পনা করছেন, যাতে একই পদ্ধতি আরও রোগীর জন্য প্রয়োগযোগ্য হয়।

শিংলস (হেরপেস জোস্টার) টিকার ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে একাধিক গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। টিকাটি ভ্যারিসেলা‑জোস্টার ভাইরাসের বিরুদ্ধে রক্ষা করে, যা শিংলস রোগের কারণ। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়া বিকাশের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

যদিও এই সম্পর্কের কারণ সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি, তবে টিকার মাধ্যমে স্নায়ুপ্রণালীকে সুরক্ষিত করা সম্ভব হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণে সহায়তা করে। গবেষকরা আরও বিশদ গবেষণার মাধ্যমে এই ফলাফলকে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছেন।

এই তিনটি গবেষণার ফলাফল বায়োমেডিকেল গবেষণার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়। তহবিলের ঘাটতি সত্ত্বেও, বিজ্ঞানীরা রোগের মূল কারণের দিকে লক্ষ্য রেখে নতুন থেরাপি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিকাশে সক্ষম হয়েছে।

পাঠকদের জন্য সুপারিশ: যদি আপনি শিংলস টিকা না নিয়ে থাকেন, তবে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে আলোচনা করুন এবং টিকার সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে জানুন। একই সঙ্গে, নতুন থেরাপি ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments