জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী রবিবার থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ অনলাইনে উপলব্ধ করবে। ওয়েবসাইটে বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণের মোট ৬৪৭টি বইয়ের পিডিএফ ফাইল ডাউনলোডের জন্য থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বইয়ের কন্টেন্টে আগাম প্রবেশ করতে পারবে।
এনসিটিবি কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, www.nctb.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট স্তর ও বিষয় নির্বাচন করলে পিডিএফ কপি সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের জন্য কোনো ফি ধার্য করা হয়নি; শিক্ষার্থীরা নিজেরা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ফাইলটি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা বিশেষত গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী, যেখানে শারীরিক বইয়ের সরবরাহে দেরি হতে পারে।
বছরের শেষ পর্যন্ত মোট প্রায় ৩০ কোটি বই মুদ্রণ করা হবে এবং সবগুলোই দেশীয় প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে ছাপা হবে। এনসিটিবি উল্লেখ করেছে যে, এই বৃহৎ মাপের মুদ্রণ প্রকল্পের সব ধাপেই স্থানীয় কাগজ ও মুদ্রণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি নতুন বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী স্তরের জন্য এখনও ২১ কোটি ৪৩ লাখ কপি মুদ্রণ বাকি রয়েছে, যা বছরের শেষের দিকে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিমাণের বড় অংশ এখনও মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে, ফলে বইয়ের পূর্ণ বিতরণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে সব মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে নতুন বই হাতে দিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষত, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এনসিটিবি অনলাইন সংস্করণ প্রকাশের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমাতে চেয়েছে।
অনলাইন সংস্করণ প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের বইয়ের কন্টেন্টে আগাম প্রবেশের সুযোগ প্রদান করা। ডাউনলোড করা ফাইলগুলোকে প্রিন্ট করে ব্যবহার করা বা ট্যাবলেট, স্মার্টফোনে সরাসরি দেখা সম্ভব। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের মূল বিষয়বস্তু আগে থেকেই জানার মাধ্যমে শিক্ষার গতি বাড়াতে পারবে।
রবিবার দুপুর ১১ টায় এনসিটিবি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আব্বার এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উপস্থিত থাকবেন। উভয় বিশারদ নতুন বইয়ের ডিজিটাল রিলিজের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।
গত বছর শিক্ষাক্রম বাতিলের পর পুরনো পাঠ্যক্রমে ফিরে যাওয়া এবং বই পরিমার্জনে সময়সীমা বাড়ার ফলে শিক্ষার্থীরা মার্চ পর্যন্ত নতুন বই পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এনসিটিবি এবার সেপ্টেম্বর মাসে মাধ্যমিক স্তরের মুদ্রণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল।
তবে সরকারি ক্রয় কমিটি প্রথম দফায় মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র বাতিল করার ফলে মুদ্রণ কাজ দুই মাস দেরি হয়। ফলে নভেম্বর মাসে মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী স্তরের ২১ কোটি ৪৩ লাখ কপি বই মুদ্রণ কাজ শুরু হয়েছে। এই দেরি সত্ত্বেও এনসিটিবি সময়মতো বই বিতরণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: নতুন বইয়ের পিডিএফ ডাউনলোড করতে প্রথমে এনসিটিবি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান, ‘অনলাইন পাঠ্যবই’ সেকশন থেকে আপনার শ্রেণি ও বিষয় নির্বাচন করুন, এবং ‘ডাউনলোড’ বাটনে ক্লিক করুন। ডাউনলোডের পর ফাইলটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট করে ব্যবহার করুন। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যে জানান, যাতে ভবিষ্যতে আরও সুবিধাজনক সেবা প্রদান করা যায়।



