ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোডিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে তিনি সপ্তাহান্তে ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই সাক্ষাৎটি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রিক যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২০‑ধাপের শান্তি পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা করবে।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন যে তিনি রবিবারের মধ্যে এই বৈঠকটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গৃহীত শান্তি পরিকল্পনা এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক প্রস্তাবনা।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ সহকারী রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে অতিরিক্ত আলোচনা চালিয়ে গেছেন। রাশিয়া এই আলোচনাকে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অগ্রগতিকে “ধীরে ধীরে কিন্তু স্থিতিশীল” বলে বর্ণনা করেছে।
রাশিয়া জেলেনস্কির পূর্বের প্রস্তাবের ওপর মন্তব্য করেনি, যেখানে তিনি পূর্বের ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়া যদি সামরিক পদক্ষেপ কমায় তবে ইউক্রেনের সৈন্য প্রত্যাহার করার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে রাশিয়া এখনও কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি।
ইউক্রেনের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারান্টি চাওয়া হচ্ছে, এবং জেলেনস্কি ডনবাসের এমন অংশের জন্য “মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল” প্রস্তাব করেছেন যা রাশিয়া জোরপূর্বক দখল করতে পারেনি। এই ধারণা অনুযায়ী ঐ অঞ্চলগুলোতে সামরিক উপস্থিতি না রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু হবে।
শুক্রবার জেলেনস্কি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনাকারী রুস্তেম উমেরভের কাছ থেকে সর্বশেষ প্রযুক্তিগত আলোচনা সম্পর্কে আপডেট পেয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কোনো দিন হারিয়ে যাচ্ছে না এবং শীঘ্রই ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে নতুন বছরের আগে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এই বিবৃতি ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ফেব্রুয়ারিতে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের প্রথম বৈঠকটি উত্তেজনাপূর্ণ তর্কে পরিণত হয়েছিল, তবে অক্টোবরের দ্বিতীয় বৈঠকটি তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু ছিল। এই পার্থক্য দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্কের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
ট্রাম্পের প্রধান আলোচনাকারী, বিশেষ envoy স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের সঙ্গে জেলেনস্কি ক্রিসমাস দিবসে এক ঘণ্টা ফোনে কথা বলেছেন। তিনি এই কথোপকথনকে “নতুন ধারণা” ও “খুবই ভালো আলোচনা” বলে বর্ণনা করেছেন।
ফোন কলের পরে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন যে উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধ শেষের নতুন উপায় উদ্ভূত হয়েছে। এই নতুন ধারণাগুলো ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির কাঠামো গঠনে সহায়ক হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনে একটি ডেমিলিটারাইজড জোন স্থাপন, যেখানে উভয় পক্ষই সৈন্য মোতায়েন না করার সম্মতি দেবে। এই পরিকল্পনা উভয় দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমাতে এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে লক্ষ্যভিত্তিক।
সামগ্রিকভাবে, জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের আসন্ন সাক্ষাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। উভয় পক্ষের আলোচনার ফলাফল কীভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করবে তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



