ইসরায়েল বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সিলোংখোরের স্বাধীনতা স্বীকৃতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। বিদেশ মন্ত্রী গিদিয়ন স্যার শুক্রবার প্রকাশ করেন যে ইসরায়েল ও সিলোংখোরের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে দু’দেশে দূতাবাস খোলার এবং দূত নিযুক্তির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
সিলোংখোর ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র তার স্বীকৃতি দেয়নি। এই অঞ্চলটি প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রোটেক্টরেটের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত, যা আজকের উত্তর সোমালিয়ার অংশ হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটান্যাহু ভিডিও কলের মাধ্যমে সিলোংখোরের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহিকে নতুন বন্ধুত্বকে “ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ” বলে প্রশংসা করেন এবং ইসরায়েল ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই সম্পর্ককে দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বিস্তারের “দারুণ সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
সিলোংখোরের স্বীকৃতি পেতে এক ত্রিশ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষ হয়েছে, যা অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ইসরায়েল, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সিলোংখোরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আফ্রিকান হর্নের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়।
সামাজিক মাধ্যমে গিদিয়ন স্যার উল্লেখ করেন যে উভয় সরকার সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি তৎক্ষণাৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দেন যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।
এই চুক্তি এক বছরের দীর্ঘ আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ফল, যা ইসরায়েল ও সিলোংখোরের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পের সূচনা করতে পারে।
সিলোংখোরের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আলোচনার সঞ্চার করবে, বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন ও স্বীকৃতি বিষয়ক বিতর্কে। যদিও এখনো কোনো জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সিলোংখোরকে স্বীকৃতি দেয়নি, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশকে অনুকরণ করতে উৎসাহিত করতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইসরায়েল সিলোংখোরকে স্বীকৃতি দিয়ে আফ্রিকান হর্নে তার কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি করতে চায়।
দূতাবাসের স্থাপনা ও দূত নিযুক্তি শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে উভয় সরকার জানিয়েছে। সিলোংখোরের রাজধানী হargeysa-তে ইসরায়েলি দূতাবাসের উদ্বোধন এবং তেল আবিবে ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে সিলোংখোরের দূতাবাসের সূচনা দু’দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার সূচনাবিন্দু হবে।
প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান এই নতুন বন্ধুত্বকে সিলোংখোরের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েল ও সিলোংখোরের এই ঐতিহাসিক চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় দেশই পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক কর্মসূচি, বাণিজ্য চুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে।
এই স্বীকৃতি সিলোংখোরের আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েল ও সিলোংখোরের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিকাশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।



