ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানির মিশিমা কারখানায় শুক্রবার এক ব্যক্তি ছুরি ও ব্লিচের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়, ফলে আটজনকে ছুরিকাঘাত এবং সাতজনকে রাসায়নিক স্প্রে করে আঘাত করে। মোট ১৫ জন কর্মচারী আহত হয়।
আক্রমণের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত বেশ কিছু কর্মী তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত আটজনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর, তবে তারা সচেতন এবং স্বশ্বাসে রয়েছে। রাসায়নিক স্প্রে পেয়ে আহত সাতজনের শ্বাসপ্রশ্বাসে সামান্য অসুবিধা দেখা যায়, তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
স্থানীয় ফুজিসান নান্তো অগ্নি বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজন ৩৮ বছর বয়সী একজন পুরুষ, যাকে ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি একটি সারভাইভাল ছুরি এবং গ্যাস মাস্কের মতো কিছু পরিধান করে ছিলেন।
শিজুয়োকা প্রিফেকচার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্দেহভাজনকে প্রয়াসী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তিনি একা কাজ করেছেন এবং আক্রমণের কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রেরণা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
অধিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ঘটনাস্থলে গ্যাস মাস্কের মতো মুখোশ পরিধান করে ছিলেন, যা তাকে রাসায়নিক স্প্রে করার সময় নিজেকে রক্ষা করতে সহায়তা করেছিল। এছাড়া, তিনি একটি বড় আকারের ছুরি ব্যবহার করে কর্মীদের আক্রমণ করেন।
আক্রমণের পর কাছাকাছি একটি গাড়ি ডিলারশিপের কর্মী ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই শান্তিপূর্ণ এলাকায় এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে দেখে তিনি আতঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন বোধ করছেন।
জাপানে হিংসাত্মক অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে কম, এবং দেশের কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতি এটিকে আরও নিরাপদ করে তুলেছে। তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছুরি ও গুলি ব্যবহার করে কিছু বিচ্ছিন্ন আক্রমণ ঘটেছে, যা জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২২ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৩ সালে চারজনের মৃত্যু ঘটানো গুলি-ছুরি হামলা জাপানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। এসব ঘটনা দেশের অপরাধের প্রবণতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জুন মাসে ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিত এক অপরাধীকে ফাঁসি দেওয়া হয়, যা প্রায় তিন বছর পর দেশের প্রথম মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ছিল। অক্টোবর মাসে আরেকজনকে গুলি ও ছুরি হামলার জন্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, যেখানে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
এই ঘটনার পর জাপানি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করছে। সন্দেহভাজনের পূর্বের কোনো অপরাধ রেকর্ড আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তার প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়াসী হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে, এবং পরবর্তী শুনানিতে তার অপরাধের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে, আহত কর্মীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই আক্রমণ জাপানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও হিংসাত্মক অপরাধের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ পায়।



