27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের গাজীপুরে জাতীয় বন্ধু সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের গাজীপুরে জাতীয় বন্ধু সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য

গাজীপুরের মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় বন্ধু সমাবেশ‑২০২৫‑এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান দেশের বিজয়ের একমাত্র লক্ষ্যকে পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রায় এক হাজার দুইশো জনের অংশগ্রহণে “আমরা সবাই বাংলাদেশ” স্লোগানে তিন দিনের সমাবেশের সূচনা হয়, যেখানে তরুণদের একত্রিত হয়ে জাতীয় সংহতি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়।

মতিউর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে যুবক-যুবতীরা এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে, যা এক ধরনের সাহসিকতার নিদর্শন। তিনি কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বন্ধুসভার নেতাদের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্পাদক বলেন, “অনেকেই নানা বিষয় প্রচার করে, তবে প্রথম আলোর একমাত্র এজেন্ডা হল বাংলাদেশের বিজয়। আমরা বাংলাদেশের জয় দেখতে চাই, আর এর বাইরে অন্য কোনো লক্ষ্য নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকাশ করেন যে, প্রথম আলো সর্বদা জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।

মতিউর রহমানের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংস্থার ওপর আক্রমণ বাড়ছে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পরেও প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা ঘটেছে, যা আগে কখনো কল্পনা করা হয়নি।

১৮ ডিসেম্বর ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয়। একই রাতে ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের সংস্কৃতি ভবনেও অনুরূপ আক্রমণ হয়, এবং পরদিন উদীচীর কার্যালয়েও আগুন জ্বলে। এই ঘটনাগুলি দেশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে।

এই আক্রমণগুলোর পর প্রথম আলোর কর্মীরা হাল ছাড়েনি, বরং আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। মতিউর রহমান জানান, “আগুন দিয়ে অফিস পুড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও আমরা ভেঙে পড়িনি; বরং আরও বেশি উদ্যমী হয়েছি। সেই রাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে হবে এবং আরও মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা করতে হবে।” তিনি এই সংকল্পকে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

মতিউর রহমান তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কবিতা, নাটক ও সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলা যায়, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রথম আলোর বন্ধুসভার এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের যুব সমাজকে একত্রিত করে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো। মতিউর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, প্রথম আলো কেবল সংবাদমাধ্যম নয়, বরং দেশের স্বার্থে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী একটি সামাজিক শক্তি।

সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সাংগঠনিক নেতারা মতিউর রহমানের দৃঢ়সংকল্পকে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত কাজের প্রতিশ্রুতি দেন। এভাবে গাজীপুরের এই মাঠে জাতীয় সংহতি, সাহস ও দায়িত্ববোধের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments