ইরানের মুদ্রা রিয়াল মার্কিন ডলার বিপরীতে সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছেছে, আর সরকার আগামী আর্থিক বছরের বাজেটকে সংকুচিত করে উপস্থাপন করেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া নতুন আর্থিক বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রস্তাবিত বাজেট পার্লামেন্টে জমা দিয়েছেন, যা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদনের পর আইন হবে।
বাজারে এক ডলার প্রায় ১.৩৬ মিলিয়ন রিয়াল দরে বিক্রি হচ্ছিল, যা পূর্বে কখনও দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবারের লেনদেনে মুদ্রা কিছুটা পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও, এই উচ্চ স্তরটি ইরানের অর্থনৈতিক অস্থিরতার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
মুদ্রার দ্রুত অবমূল্যায়নের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এই বহুমুখী চাপের ফলে রিয়ালের অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কর্তৃক উপস্থাপিত বাজেটের নামমাত্র বৃদ্ধি মাত্র পাঁচ শতাংশ, যেখানে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি প্রায় পঞ্চাশ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাস্তবে সরকারি ব্যয় আগের বছরের তুলনায় কমে যাবে, যদিও নামমাত্র সংখ্যা বাড়ছে।
বাজেটের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিও মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম, মাত্র বিশ শতাংশ বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে, কারণ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি একসাথে কাজ করবে।
সরকারের আরেকটি প্রধান পদক্ষেপ হল কর সংগ্রহে বিশাল বৃদ্ধি, যা আগামী বছর প্রায় বাষট্টি শতাংশ বাড়বে। এই করবৃদ্ধি তেল রপ্তানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং বিকল্প রাজস্ব উৎস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের তেল রপ্তানি এখন বেশিরভাগই চীনের দিকে অন্ধকার জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়। তেল আয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে কর বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আয় উৎসের বিকাশ সরকারকে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান বিনিময় হারে বাজেটের মোট মূল্য প্রায় একশ ছয় বিলিয়ন ডলার, যা আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের ২০২৬ সালের বাজেটের তুলনায় অনেক কম। ইরানের বহুমাত্রিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা এখনও কার্যকর, এবং সরকার নতুন বরাদ্দ প্রস্তাবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা সমন্বয় করার পরিকল্পনা করেছে।
বাজেট পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে, এরপর আইনগত স্বীকৃতি পাবে। এই প্রক্রিয়ার পর সরকারকে কঠোর মুদ্রা নীতি, কর সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং তেল রপ্তানি কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।



