ফাতুল্লা, নরায়ণগঞ্জে আজ প্রাতঃকালীন সময়ে বুরিগঙ্গা নদীর ধর্মাগঞ্জ এলাকায় বাল্কহেড MV কাশফা স্নেহা লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। লঞ্চের নাম সুন্দরবন‑১৬, যা ঢাকার দিকে যাচ্ছিল; সংঘর্ষের ফলে বাল্কহেড উল্টে যায় এবং দুইজন ক্রু সদস্যের প্রাণ ত্যাগ করে।
মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমজন হলেন ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম শাকিল, যিনি পটুয়াখালীর ডুমকি উপজেলার চারগোরাবাড়ি গ্রাম থেকে আসা আমির হাওলাদারের পুত্র। দ্বিতীয়জন হলেন ২০ বছর বয়সী মোঃ হাসান, যিনি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা।
বাল্কহেডটি প্রায় সকাল ৬:১৫ টায় ধর্মাগঞ্জে নোঙর বেঁধে ছিল। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BIWTA) সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান জানান, ডুবে যাওয়ার সময় দুইজন ক্রু ইঞ্জিন রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন।
বাল্কহেডের ইঞ্জিন রুমে ঘুমিয়ে থাকা ক্রুদের অবস্থান জানার পর, তৎক্ষণাৎ সমুদ্র রক্ষা বাহিনী, অগ্নি সেবা, সিভিল ডিফেন্স ও BIWTA উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধার দলে দ্রুত নৌকা ও রেসকিউ গিয়ার পাঠানো হয়।
পাগলা নদী পুলিশ আউটপোস্টের ইনস্পেক্টর আকিবুল ইসলাম জানান, বাল্কহেডটি নোঙর বেঁধে থাকাকালীন সুন্দরবন‑১৬ লঞ্চের ধাক্কা পায়, ফলে তা উল্টে যায়। লঞ্চটি ঢাকার দিকে যাত্রা করছিল এবং সংঘর্ষের মুহূর্তে উভয় নৌকা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
সংঘর্ষের পর তিনজন ক্রু সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তবে শাকিল ও হাসান উভয়ই ইঞ্জিন রুমের ভিতরে আটকে যায় এবং উদ্ধার করা যায় না। বাল্কহেডের চালক নান্নু মিয়া জানান, দুর্ঘটনা ঘটার সময় সকল ক্রু ঘুমিয়ে ছিল। তিনি এক তীব্র শব্দে জেগে ওঠেন এবং নৌকাটি ডুবে যাওয়া লক্ষ্য করেন।
নান্নু মিয়া বলেন, তিনি জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, “আমি হঠাৎ একটা জোরে শব্দ শুনে জেগে উঠলাম, নৌকা ডুবে যাচ্ছে বুঝতে পারলাম, তৎক্ষণাৎ জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে এলে তীরে পৌঁছাতে পারলাম।”
দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে কোনো মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি; তবে পরে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মৃতদেহের পরিচয় যাচাই করে পরিবারকে জানাতে কাজ করছে।
দুর্ঘটনা পর তদন্তের দায়িত্ব নরায়ণগঞ্জের পুলিশ ও BIWTA-কে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে নৌকার অবস্থা, নোঙর স্থিতি ও লঞ্চের গতি বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট লঞ্চের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের নৌযান আইন অনুযায়ী, নোঙরবদ্ধ নৌকাকে অন্য নৌকায় ধাক্কা দেওয়া হলে দায়িত্বশীল পক্ষকে অপরাধমূলক দায়ের করা হতে পারে। তদন্তে প্রমাণিত হলে লঞ্চের মালিক ও চালককে অপরাধমূলক দায়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশও দেওয়া হতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অধিক তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে; শেষ পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো হবে।



