গিনি-তে ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের দিন, সামরিক নেতা জেনারেল মামাদি ডুমবুয়া ভোটের পাত্র হিসেবে নাম নেন এবং তার জয়কে বেশিরভাগ বিশ্লেষক নিশ্চিত করছেন। ভোটে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত থাকবে।
২০১৯৯৯ সালে জেনারেল ডুমবুয়া, তার স্বতন্ত্র র্যাপ-আরাউন্ড সানগ্লাসের জন্য পরিচিত, তখনকার সরকারকে উল্টে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পূর্বে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে এখন তিনি নিজের নাম প্রার্থী তালিকায় যুক্ত করেছেন।
২০২১ সালের কূ দখল গিনির গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করে, দীর্ঘদিনের সামরিক হস্তক্ষেপের ধারাকে পুনরায় চালু করে। সেই সময়ের পর আফ্রিকান ইউনিয়ন থেকে সাসপেনশন এবং ECOWAS-এর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়।
গিনির জনসংখ্যা প্রায় পনেরো মিলিয়ন, এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লোহার আকরিক ও বক্সাইটের রপ্তানিকারক। বিশেষ করে সিমান্ডু খনি, যা বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম লোহার আকরিক প্রকল্পগুলোর একটি, সরকার ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করছে। তাছাড়া হীরক, স্বর্ণ ও ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধি দেশকে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
ডুমবুয়ার শাসনকালে খনিজ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃষ্টিতে ইতিবাচক সূচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে বিরোধীরা তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিশেষ করে তার পূর্বের প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিবাদ ও মিডিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করে।
গিনির রাজধানী কনাক্রি, একটি উপকূলীয় শহর, যেখানে জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ মুসলিম, বাকি ১৫ শতাংশ খ্রিস্টান ও অ্যানিমিস্ট। ফুলানি, মালিঙ্কে ও সোসো প্রধান জাতিগত গোষ্ঠী, তবে দুই ডজনেরও বেশি ছোট গোষ্ঠী দেশজুড়ে বসে আছে। গিনি নাইজার নদীর উত্সস্থল, যা বহু দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নাইজেরিয়ার মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে মিলিত হয়।
এই নির্বাচনের ফলাফল ডুমবুয়ার ক্ষমতা আরও দৃঢ় করবে এবং সামরিক শাসনের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে নিশ্চিত করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তার প্রশ্নও উত্থাপিত হবে, বিশেষ করে ECOWAS ও আফ্রিকান ইউনিয়নের পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা নজরে থাকবে।
ভবিষ্যতে গিনির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দুটি সম্ভাবনা দেখা যায়: যদি ডুমবুয়া জয়ী হন, তবে তিনি তার শাসনকে সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারেন, অথবা বিরোধী গোষ্ঠীর অব্যাহত বিরোধ ও আন্তর্জাতিক চাপের ফলে দেশীয় অস্থিরতা বাড়তে পারে। যেকোনো ক্ষেত্রে, গিনির জনগণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই নির্বাচনের পরিণামের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠন, পার্লামেন্টের সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ফলাফলের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা পর্যবেক্ষণ করবে। গিনির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।



