সাগরকন্যা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত টানা সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিনে বিশাল ভিড়ের মুখে পড়েছে। ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিনের ছুটির সঙ্গে যুক্ত সরকারি তিন‑দিনের ছুটির প্রথম দিনেই সকাল থেকে পর্যটকদের স্রোত প্রবাহিত হয়। এই ছুটির ফলে সমুদ্রের জিরো পয়েন্টের কাছের বালিয়াড়ি এবং পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্থানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং নৌ‑পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সৈকতে গশত গশত করে চলা ভিড়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যরাও উপস্থিত, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
বৃহস্পতিবারের ভিড়ের পর, শুক্রবারের সকাল থেকে কুয়াকাটার আশেপাশের কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিন নদীর মোহনা, লেবুরবন, শুটকি পল্লী, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, কাউয়ার চর, রাখাইন মার্কেট, সীমা বৌদ্ধ বিহার এবং শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সবই ভিড়ের মুখে। এই স্থানগুলোতে গাছের ছায়া, পুকুরের শান্তি এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী জানালেন, ছুটির দিনগুলোতে হোটেল‑মোটেলগুলো সম্পূর্ণ বুকড এবং ব্যবসা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল‑মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উল্লেখ করেন, পর্যটকের চাপ এখনও অব্যাহত, ফলে হোটেল রুমের দামের কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একজন পর্যটক পরিবারসহ কুয়াকাটায় আসার কথা জানান, সমুদ্রের নীল রঙ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগের জন্য এখানে এসেছেন। অন্যদিকে, একটি দম্পতি শারমিন আক্তার সুইটি ও আক্তার হোসেন কুয়াশার কারণে সূর্যোদয় দেখতে না পেয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করেন, তবু সমুদ্রের বাতাস এবং শান্ত পরিবেশে সন্তুষ্ট ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন, খাবার ও হোটেল ভাড়া সাধারণের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবে ছুটির আনন্দের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী সুপার হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও থানা পুলিশ, নৌ‑পুলিশ এবং সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তারা পর্যটকদের গাইডলাইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে সচেষ্ট।
কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত, যা সূর্যোদয়‑সূর্যাস্তের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত, এখন টইটুম্বুর ছুটির অন্যতম গন্তব্যে পরিণত। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং স্থানীয় ব্যবসার জন্য বর্ধিত আয় এনে দিয়েছে। যদিও কিছু পর্যটক দাম বাড়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তবু সমুদ্রের স্বচ্ছ পানির দৃশ্য, নরম বালির ময়দান এবং ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহারের নীরবতা তাদের ছুটির অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, টইটুম্বুর ছুটির সময় কুয়াকাটার পর্যটন কার্যক্রম তীব্রভাবে চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা, হোটেল‑মোটেলের পূর্ণ বুকিং এবং পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এই গন্তব্যকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র তীরের মধ্যে স্থান দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটক প্রবাহ আরও বাড়তে পারে, তাই স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



