স্প্যানিশ কোচ কার্লোস কুয়েস্টা, ৩০ বছর বয়সে, জুন মাসে পারমা ক্লাবের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পদে তিনি ১৯৩৯ সালের পর সিরি এ-তে সর্বকনিষ্ঠ হেড কোচের মর্যাদা অর্জন করেন। কুয়েস্টা পূর্বে পাঁচ বছর ধরে আর্টেটার সহকারী হিসেবে আর্সেনাল দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ক্লাবের ‘অল অর নাথিং’ ডকুমেন্টারিতে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজরে এনেছিল।
কুয়েস্টা বলেছিলেন, কোচিং তার জন্য স্বাভাবিক একটি আকাঙ্ক্ষা, যা তার কিশোর বয়স থেকেই গড়ে উঠেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখনই বুঝতে পারি যে অন্য কোনো পেশা আমাকে সন্তুষ্ট করবে না; কোচিংই আমার অন্তর্নিহিত প্রয়োজন।” এই অভ্যন্তরীণ প্রেরণাই তাকে আর্টেটার সঙ্গে কাজ করার সময় থেকে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণদাতা থেকে প্রধান কোচের পথে নিয়ে যায়।
আর্সেনালে তার সময়কালে কুয়েস্টা দলীয় কৌশল, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আর্টেটার নেতৃত্বে দলকে আধুনিক ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলার কাজের অংশ ছিলেন, যা ক্লাবের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত কুয়েস্টাকে কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলেছিল। তিনি স্বীকার করেন, “আর্সেনাল ছেড়ে যাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল।” তবে পারমা থেকে প্রস্তাব পেয়ে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পারমা, ইতালির এমিলিয়া-রোমাগনা অঞ্চলে অবস্থিত, তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং কুয়েস্টাকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেয়।
কুয়েস্টা নতুন দলে তার প্রথম কাজ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়দের বিশ্বাস অর্জনে মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, “একজন কোচের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তার খেলোয়াড়দের উপর বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে দলকে সঠিক পথে পরিচালনা করা আমার প্রধান লক্ষ্য।” পারমা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা তার এই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে এবং তাকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেছে।
কুয়েস্টা ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু হাস্যকর মন্তব্যও করেন। তিনি একবার মজার ছলে বলেছিলেন, “কখনো কখনো ভাবি, ক্যারিয়ার শেষ হলে মালদ্বীপের সোনালি বালিতে বিশ্রাম নিতে পারি।” যদিও তিনি স্বীকার করেন, কোচিংয়ের তীব্রতা এবং দায়িত্বের কারণে তিনি এখনো বিশ্রামের স্বপ্নকে দূরে রাখেন। তবে তিনি এই মন্তব্যকে একধরনের রসিকতা হিসেবে তুলে ধরেন, যা তার কাজের প্রতি উত্সাহ ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
কুয়েস্টার পারমা-তে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্লাবের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তার ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদিও এখনো পুরো সিজনের ফলাফল নির্ধারিত হয়নি, তবে ক্লাবের ভক্তরা তার নেতৃত্বে নতুন আশার সঞ্চার অনুভব করছেন।
কুয়েস্টা ভবিষ্যতে পারমা ক্লাবকে সিরি এ-তে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দলকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে আমরা লিগে শীর্ষে পৌঁছাতে পারি।” তার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ, কৌশলগত পরিবর্তন এবং দলীয় মনোবল বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সারসংক্ষেপে, কার্লোস কুয়েস্টা আর্টেটার সঙ্গে পাঁচ বছর কাজের পর আর্সেনাল ছেড়ে পারমা ক্লাবের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বয়সের তুলনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ইতালিয়ান ফুটবলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম করেছে। পারমা ভক্তরা এখন তার নেতৃত্বে দলকে কীভাবে গড়ে তোলা হবে তা নিয়ে উন্মুখ, আর কুয়েস্টা নিজে বলছেন, তার জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি, তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।



