কুয়ালালামপুরের হাইকোর্ট শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ১এমডিবি তহবিল থেকে বিশাল অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষী সাব্যস্তের রায় প্রদান করে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাজিব ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গি (প্রায় ৫৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারক কলিন লরেন্স সেকুয়েরাহ রায়ে স্পষ্টভাবে চারটি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নাজিবকে দোষী ঘোষণা করেন। বর্তমানে ৭২ বছর বয়সী নাজিব, ১এমডিবি-র একটি শাখা, এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে অর্থ আত্মসাতের জন্য ইতিমধ্যে শাস্তি পাচ্ছেন।
নাজিবের বিরুদ্ধে মোট ২১টি আর্থিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার পূর্ণ রায় ও শাস্তি এখনো নির্ধারিত হয়নি। যদি এই সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার মোট শাস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রসিকিউশন দল আদালতে যুক্তি দিয়ে বলেছে, নাজিব যখন প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবি উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে তহবিলের বিশাল অংশকে ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেন। এই অভিযোগের ভিত্তি হল তহবিলের অস্বাভাবিক স্থানান্তর এবং নথিপত্রে দেখা গিয়েছে এমন অস্বচ্ছ লেনদেন।
১এমডিবি কেলেঙ্কারির প্রথম প্রকাশ ২০১৫ সালে হয়। ২০২০ সালে নাজিবের বিরুদ্ধে একই তহবিল থেকে প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অপব্যবহারের অভিযোগে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে ছয় বছরে হ্রাস করা হয়। বর্তমানে তিনি সেই শাস্তি পালন করছেন।
গত বছর নাজিব ক্ষমা চেয়েছিলেন, দাবি করে যে তিনি জো লো নামের মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যাকে তিনি তহবিলের অপব্যবহারে প্রধান দায়ী হিসেবে দেখেন। জো লোকে ২০১৬ সালে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়া হয়।
বিচারক সেকুয়েরাহ রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, প্রমাণে দেখা গেছে নাজিব ও জো লোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় ছিল। জো লোকে নাজিবের ‘প্রক্সি ও মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করার রেকর্ড আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।
বিচারক আরও উল্লেখ করেন যে, ১এমডিবি-র সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নাজিবই নেন, এবং তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা জো লোর সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছিল এমন ধারণা বাস্তবের চেয়ে কল্পনাপ্রসূত। এই মন্তব্য কেলেঙ্কারির প্রকৃত দায়িত্বকে স্পষ্টভাবে নাজিবের ওপর কেন্দ্রীভূত করেছে।
অধিকন্তু, আদালত জানিয়েছে যে, নাজিবের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তহবিলের প্রবাহের রেকর্ড স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে, যা তার আর্থিক স্বার্থে তহবিলের অপব্যবহারকে নিশ্চিত করে। এই তথ্য ভবিষ্যৎ রায়ে শাস্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই রায় নাজিবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তার পার্টি উমনোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ধারাবাহিক আইনি পরাজয় উমনোর নির্বাচনী অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে, এবং বিরোধী দলগুলো এই রায়কে রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। নাজিবের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ফলে উচ্চতর আদালতে মামলাটি পুনর্বিবেচনা হতে পারে। ভবিষ্যৎ রায়ের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এই রায়ের পরিণতি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



