20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমেঘনা নদীতে লঞ্চ সংঘর্ষে ৪ মৃত্যু, ৫ আহত; পরিবারকে অনুদান ঘোষণা

মেঘনা নদীতে লঞ্চ সংঘর্ষে ৪ মৃত্যু, ৫ আহত; পরিবারকে অনুদান ঘোষণা

মেঘনা নদীর ঘন কুয়াশার মধ্যে গত রাতের প্রায় একটায় দুইটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কা ঘটায় চারজনের মৃত্যু এবং পাঁচজনের আঘাত। ভোলা থেকে ঢাকা যাওয়া এমভি জাকির সম্রাট‑৩ এবং বরিশালগামী অ্যাডভেঞ্চার‑৯ লঞ্চের মুখোমুখি হওয়ায় দু’টি নৌকা দুমড়ে‑মুচড়ে যায়।

ধাক্কা ঘটার মুহূর্তেই জাকির সম্রাট‑৩ নৌকাটি ভেঙে পড়ে, ফলে ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী প্রাণ হারায়। বাকি আহতদের ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে তিনজনের মৃত্যু হয়, ফলে মোট চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। মৃতদের সবই ভোলার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

দুর্ঘটনায় আহতদের সংখ্যা অন্তত পাঁচ, যাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ নেওয়া হয়েছে। মৃত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন অনুদান ঘোষণা করেছেন।

উপদেষ্টা জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারকে প্রত্যেকের জন্য দেড় লাখ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই অনুদান সরকারী তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে এবং দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।

দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জাহাজের রেকর্ড এবং চালকের বিবৃতি সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, “যে লঞ্চ চালাচ্ছিল, তার কোনো দায়িত্ব থাকতে পারে; তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।”

তদন্তের পাশাপাশি, নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সকাল আটটার আগে বাল্কহেড (বড় জাহাজ) চলাচল করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় হলে গ্রেপ্তার করা হবে।

অ্যাডভেঞ্চার‑৯ লঞ্চকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে সন্দেহ করা হয়েছে। ঝালকাঠি থানা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লঞ্চটি জব্দ করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে চালক ও সহচালক অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর মৃতদের দেহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নিয়ে আসা হয়। আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য আচার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শোকের পরিবেশ দেখা যায়। মৃতদের পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি সরকারী অনুদান প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নৌবাহিনীর সহযোগিতায় আহতদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের অধিকাংশই নিকটস্থ হাসপাতালের তীব্র সেবা বিভাগে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নৌযান চলাচলের সময় কুয়াশা সতর্কতা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

এই ঘটনার পর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, “নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সকল তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি সরকারী সূত্র থেকে সময়ে সময়ে জানানো হবে। জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, নৌযান ব্যবহার করার সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি হলে তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments