শাহবাজী পার্কের বাংলাদেশ‑চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রে আজ অনুষ্ঠিত ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী আমীর শাফিকুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের শর্ত নির্ধারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দল যদি জোট করতে চায় তবে তাকে তিনটি মূল শর্ত মেনে চলতে হবে।
প্রথম শর্ত হল দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমর্থন না করা। দ্বিতীয় শর্তে তিনি জোর দেন, সমাজের সব স্তরে সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকে। তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, সকল সংস্কার সুপারিশের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।
শাফিকুরের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেন, যেখানে কোনো মানুষ বেকার থাকবে না। তিনি বলেন, “প্রতিটি হাতকে দেশের নির্মাণে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” এভাবে শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা হবে।
শিবিরের ছাত্রদের রক্ষক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতীতের ৫৪ বছরকে স্মরণ করেন, যখন ছাত্রদের হাতে থেকে কলম তোলা হতো, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের গুলিয়ে ফেলা হতো এবং ক্যাম্পাসগুলোকে ছোট ক্যাম্পে রূপান্তর করা হতো। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে নারীর মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের জীবন ও ক্যারিয়ারের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। যদিও সেই অন্ধকার সময় ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে, তবু দেশের উপর ছায়া এখনও রয়ে গেছে; তাই শিবিরকে এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
সম্মেলনের সময় জামায়াতে ইসলামির সচিব সাধারণ মিয়া গোলাম পরওয়ারও মতামত শেয়ার করেন। তিনি বলেন, শিবিরের বিরোধীরা যুক্তি ও আদর্শের পরিবর্তে মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করে শিবিরকে স্বাধীনতা বিরোধী ও ‘রোগকাটা’ হিসেবে লেবেল করেছে, তবে তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি যোগ করেন, চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে শিবিরের প্রস্তাবিত প্রার্থীরা ভোটে পরাজিত হয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে ওমর বিন হাদি, শিবিরের প্রবীণ সদস্য, অতীতের কষ্টের কথা তুলে ধরে বর্তমানের চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি জোর দেন, শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে ক্ষমতায়ন করা এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
শাফিকুরের শর্তগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের ভবিষ্যৎ জোট গঠনের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন। যদি কোনো দল এই শর্তগুলো মেনে চলে, তবে জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সমন্বয় আনতে পারে। তবে শর্তগুলো পূরণ না হলে জোটের সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।
এই সম্মেলনটি জামায়াতে ইসলামির ছাত্র শিবিরকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিবিরের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য শর্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
শাফিকুরের এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন থেকে মন্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে। জোটের শর্তগুলো পূরণে পার্টিগুলোর প্রস্তুতি এবং শিক্ষার সংস্কার পরিকল্পনা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, শাফিকুরের তিনটি শর্ত জোটের জন্য একটি স্পষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং শিক্ষার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে। এই শর্তগুলো পূরণে পার্টিগুলোর ইচ্ছা ও সক্ষমতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়কে নির্ধারণ করবে।



