20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতরিক রহমান ১৯ বছর পর বাবার সমাধিতে শোকস্মরণে গমন

তরিক রহমান ১৯ বছর পর বাবার সমাধিতে শোকস্মরণে গমন

বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান ১৯ বছর পর প্রথমবারের মতো তার পিতার সমাধি পরিদর্শন করেন। ২৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪:৫০টায় তিনি জিয়াুর রহমানের সমাধি‑স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শোকের ফুলমালা অর্পণ ও প্রার্থনা করেন। তরিকের সঙ্গে উচ্চপদস্থ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন, আর সমাধি‑প্রাঙ্গণের চারপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল।

সকাল ১২টায় গার্ড, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী সমাধি‑প্রাঙ্গণে মোতায়েন করে মিডিয়া ও পার্টি কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেয়। নিরাপত্তা কর্মীরা দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট দূরত্বে থামিয়ে রাখে, কোনো ব্যক্তি সমাধির নিকটে যাওয়ার অনুমতি পায় না।

তরিকের সমাধি‑স্মরণে উপস্থিতির সময় পার্টি কর্মী ও সমর্থকরা প্রবেশদ্বারের সামনে একত্রিত হয়ে স্লোগান গাইতে থাকে। সমাধি‑প্রাঙ্গণের ভিতরে কেবলমাত্র উচ্চপদস্থ নেতাদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তরিক একা কিছু সময় সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন, এরপর তিনি ধীরে ধীরে প্রাঙ্গণের বাইরে ফিরে আসেন।

প্রায় একটায়, সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতারা ও সমর্থকরা ব্যানার, ছবি ও ছোট দলে সমাধি‑প্রাঙ্গণের চারপাশে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। সমাবেশের ভিড়ের মধ্যে তরিক গুলশান থেকে বাসে করে রওনা হয়ে, বিজয় সরণি দিয়ে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পরে সমাধি‑প্রাঙ্গণে পৌঁছান। পথে তিনি সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের হাতে হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানান।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তরিকের শেষবার জিয়াুর রহমানের সমাধি পরিদর্শন ছিল ১ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে। এই দীর্ঘ বিরতির পর আজকের গমনকে দলীয় নেতারা রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ ও পার্টির মনোবল বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন।

অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তরিকের সমাধি‑স্মরণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিএনপি নেতারা তরিকের সমাধি‑স্মরণকে পার্টির ঐতিহাসিক ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তরিকের উপস্থিতি ও সমর্থকদের সমাবেশকে পার্টির অভ্যন্তরে ঐতিহ্যবাহী সংহতি ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতির সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও মিডিয়া প্রবেশে সীমাবদ্ধতা রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। সমাধি‑প্রাঙ্গণের আশেপাশে মিডিয়া না থাকা ফলে ঘটনাবলীর পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

এই গমনকে কেন্দ্র করে পার্টির অভ্যন্তরে ও বাহ্যিকভাবে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। তরিকের সমাধি‑স্মরণকে পার্টির পুনর্গঠন ও নতুন রাজনৈতিক ক্যালেন্ডার গঠনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ও তার প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ভবিষ্যতে, তরিকের এই পদক্ষেপকে কীভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তরিত হবে, তা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, নিরাপত্তা বাহিনীর নীতি এবং বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। তরিকের সমাধি‑স্মরণে উপস্থিতি ও পার্টির সমাবেশের পরিধি দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নে নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা এবং জনমত গঠন প্রক্রিয়ার সমন্বয় প্রয়োজন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments