সিরিয়ার হোমস শহরের ওয়াদি আল-দাহাব পাড়া অবস্থিত ইমাম আলি বিন আবি তলিব মসজিদে শুক্রবারের নামাজের পর একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই হামলায় তিনজনের মৃত্যু এবং পাঁচজনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে এলাকার চারপাশে নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয় এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের সঠিক সময়কাল নামাজের শেষের দিকে, যখন মসজিদে উপাসকরা একত্রিত ছিলেন, তখন ঘটেছে বলে জানা যায়। সানা (সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি) এই ঘটনাকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
মসজিদটি হোমসের ওয়াদি আল-দাহাব এলাকায় অবস্থিত, যা শহরের কেন্দ্রীয় অংশের কাছাকাছি এবং পূর্বে বহুবার সংঘর্ষের শিকার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বিস্ফোরণটি সম্ভবত আত্মঘাতী বোমাবর্ষক বা পূর্বে স্থাপিত বিস্ফোরক যন্ত্রের ফল হতে পারে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ঘটনাস্থলে একটি কঠোর ঘেরাও গড়ে তোলা হয়। তারা এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং বিস্ফোরণের কারণ ও দায়ী সনাক্ত করার জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের পেছনে আত্মঘাতী বোমাবর্ষক বা পূর্বে স্থাপিত বিস্ফোরক যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে।
হোমস শহর সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অন্যতম গরমবিন্দু, যেখানে গত দশকে বহুবার বোমা হামলা ও গুলিবিদ্ধি ঘটেছে। মসজিদে এই ধরনের আক্রমণ ধর্মীয় স্থাপনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
সংযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র ঘটনাটিকে নিন্দা করে বলেছেন, “ধর্মীয় স্থাপনা ও উপাসকদের লক্ষ্য করে করা কোনো আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।” একই সঙ্গে তিনি সিরিয়ার সরকারকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সাম্প্রতিক মাসে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় স্থানকে লক্ষ্য করে আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় সহনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা আরও বলছেন, এই ধরনের হামলা গৃহযুদ্ধের জটিলতা বাড়িয়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা হোমসের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, ধারাবাহিক আক্রমণগুলোতে সীমানা পারাপার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গোপনীয় তথ্য শেয়ারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিরিয়ার সরকার এই মুহূর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণ রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে। তবে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও দায়ী সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে যাবে।



