সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা, মাইঝগাঁও গ্রাম থেকে সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় ৩০ গজ দূরে, আজ সকাল প্রায় আটটায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২৪টি ইলেকট্রিক ডিটোনেটর উদ্ধার করেছে। এই ডিটোনেটরগুলো পলিথিনে মোড়ানো এবং শুকনো পাতা মধ্যে লুকিয়ে ছিল বলে জানা গেছে।
ডিটোনেটরগুলো বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের উপকরণ সীমান্তে পাওয়া নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কারণ সেগুলো সন্ত্রাসী বা গোপন অপারেশনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ.কে.এম. জাকারিয়া কাদিরের মতে, বর্তমান দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ডিটোনেটরগুলো দুষ্প্রাপ্য উদ্দেশ্য নিয়ে আনা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এবং ডিটোনেটরগুলো কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে তা নির্ধারণ করা হবে।
সুনামগঞ্জের সীমান্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ, এবং বিজিবি এই পুরো সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়ে চলেছে। সীমান্তে কোনো অননুমোদিত বস্তু বা অবৈধ কার্যকলাপের সম্ভাবনা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিটোনেটর উদ্ধার হওয়ার পর থেকে সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত গার্ডি মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে একই সময়ে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রাস্তায় গিয়ে অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। যদিও এই প্রতিবাদ ডিটোনেটর উদ্ধার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়, তবে দেশের নিরাপত্তা ও আইনি পরিবেশের সামগ্রিক চিত্রে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজিবি কর্তৃক ডিটোনেটর উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য সরবরাহ চেইন চিহ্নিতকরণ এবং ডিটোনেটরের উৎপত্তি অনুসন্ধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়ে বলছে, সীমান্তে এমন কোনো অবৈধ বস্তু প্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের সীমান্তে এই ধরনের অবৈধ সামগ্রী পাওয়া দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং সীমান্ত রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি নিবারণ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।
বিজিবি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ডিটোনেটরগুলো যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় তবে তা বড় ধরনের ধ্বংস সাধন করতে পারে, তাই সেগুলোর নিরাপদ নিষ্পত্তি এবং বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং দেশের শান্তি রক্ষায় এই ধরনের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিটোনেটর উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও আপডেট দেওয়া হবে।



