যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৬ ডিসেম্বর নতুন যুদ্ধজাহাজের নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের নামে ‘ট্রাম্প ক্লাস’ নামে একটি রণতরী তৈরি হবে, যা এখন পর্যন্ত নির্মিত কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চেয়ে বড়, দ্রুত এবং শক্তিশালী হবে। এই জাহাজটি নৌবাহিনীর ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো সামরিক শক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প ক্লাসকে প্রথম গাইডেড মিসাইল ব্যাটলশিপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পারমাণবিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উভয়ই বহন করতে সক্ষম। নৌবাহিনীর বিবরণ অনুযায়ী, এই রণতরী শক্তি প্রদর্শন, আক্রমণাত্মক হামলা চালানো এবং সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্লাসের ধ্বংসক্ষমতা পূর্বের কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তুলনায় বেশি হবে এবং শত্রুকে ৮০ গুণ বেশি দূরত্বে আঘাত করতে পারবে। জাহাজের মূল অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে বড় আকারের মিসাইল ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম রয়েছে, যা দীর্ঘপাল্লার হাইপারসনিক হামলা চালাতে সক্ষম এবং বর্তমান নৌবাহিনীর পরিসরের বাইরে থাকা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।
এই সিস্টেমটি এককভাবে পরিচালিত হতে পারে, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হতে পারে অথবা নিজস্ব সারফেস অ্যাকশন গ্রুপের নেতৃত্বও দিতে পারে। ট্রাম্পের মতে, নতুন প্রজন্মের রণতরীতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অতিরিক্ত মারণাস্ত্র সংযোজন করা হবে, যা ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিটি ট্রাম্প ক্লাস জাহাজের ওজন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন হবে এবং সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় নির্মিত হবে। ট্রাম্পের বিবৃতি অনুসারে, এই রণতরীগুলো এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে বড় ও ভারী যুদ্ধজাহাজ হবে, বিশেষ করে নৌযুদ্ধের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভারী সাঁজোয়া জাহাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ক্লাস আইওয়া শ্রেণির তুলনায় একশ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে, জাহাজে ইলেকট্রিক রেল গান, ক্রুজ মিসাইল এবং সর্বাধুনিক লেজার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের সংযোজন নৌবাহিনীর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা উভয়ই বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেন, এত বড় ও জটিল রণতরীর উন্নয়ন ও নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হাইপারসনিক ও লেজার প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ সংযোজনের জন্য অতিরিক্ত গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকান প্রভাবকে শক্তিশালী করা এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
প্রোগ্রামটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে; বিস্তারিত নকশা, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং নির্মাণ সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারী সূত্র অনুযায়ী, পরিকল্পনা দ্রুত অগ্রসর করার জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শীঘ্রই নেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ রণতরী হিসেবে ট্রাম্প ক্লাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বৃহৎ আকার, উচ্চ গতিবেগ এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



