28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচাঁদপুরে লঞ্চ দুর্ঘটনা: চারজনের মৃত্যু, লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘনে বাতিলের সতর্কতা

চাঁদপুরে লঞ্চ দুর্ঘটনা: চারজনের মৃত্যু, লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘনে বাতিলের সতর্কতা

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে আজ দুইটি লঞ্চের ধাক্কা মারাত্মক ফলাফল বয়ে এনেছে; চারজনের প্রাণ ত্যাগ এবং বেশ কিছু যাত্রী আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মৃতদের পরিবারকে তৎক্ষণাৎ জানানো হয় এবং শোক প্রকাশের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

শিপিং উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসর) এম. সাখাওয়াত হোসেন আজের এই ঘটনার পর লঞ্চ পরিচালনাকারীদের কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো লঞ্চ যদি লাইসেন্সধারী চালক ছাড়া চলে, আলো না জ্বালায় বা অন্যান্য ন্যায়বিচারবিহীন কাজ করে, তবে তার লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এই নির্দেশনা লঞ্চ শিল্পে নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, লঞ্চ চালকদের লাইসেন্সধারী চালক থাকা, রাত্রিকালীন সময়ে আলো চালু রাখা এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে শিপিং বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি রুট পারমিটও প্রত্যাহার করার অধিকার রাখবে। এই নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয় তদন্তের জন্য। এই কমিটি লঞ্চের যান্ত্রিক অবস্থা, চালকের কর্মক্ষমতা এবং রাত্রিকালীন দৃশ্যমানতা ইত্যাদি বিষয় বিশ্লেষণ করবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিপিং উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দুইটি লঞ্চের সংঘর্ষের প্যাটার্ন থেকে দেখা যায় যে, চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন অথবা নিয়ন্ত্রণ অন্যকে হস্তান্তর করেছেন। এই ধরনের মানবিক ত্রুটি রাত্রিকালীন ন্যাভিগেশনকে অস্থির করে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই, চালকদের সতর্কতা বজায় রাখা এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি।

অতিরিক্তভাবে, তিনি নির্দেশ দেন যে, কুয়াশা বা অল্প দৃশ্যমানতার সময় রাত্রিকালীন লঞ্চ চালনা নিষিদ্ধ থাকবে, যতক্ষণ না দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এই নির্দেশনা মেঘনা নদীর মতো বড় নদীতে রাত্রিকালীন ন্যাভিগেশনকে নিরাপদ করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়েও স্পষ্টতা আনা হয়েছে। মৃতের পরিবারকে প্রত্যেককে ১.৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা প্রদান করা হবে। এই আর্থিক সহায়তা শোকের সময় পরিবারকে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলোকে আঞ্চলিক সংঘাতে যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে; যেমন ইয়েমেনের উত্তরপশ্চিমে লোহিত সাগরপারের দেশ সুদানের গৃহযুদ্ধে আমিরাতের উপস্থিতি। এই তথ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে, যদিও তা সরাসরি লঞ্চ দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

শিপিং বিভাগ ভবিষ্যতে লাইসেন্স ও রুট পারমিটের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে এবং লঞ্চ শিল্পে নিরাপত্তা সংস্কার ত্বরান্বিত করবে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও চালকদের এই নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি স্বীকার করা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে সরকারী সূত্র জোর দিয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনগণকে নিরাপদ পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এটাই শিপিং বিভাগের শেষ বার্তা।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments