গত শুক্রবার তাইওয়ানের আইনসভা হলের সামনে কুয়োমিনতাংগ (KMT) ও তাইওয়ান পিপলস পার্টি (TPP) একত্রে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে ও প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাইকে অপসারণের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোজন শুরু করে। উভয় নেতাকে সংবিধান ও আইনসভার প্রক্রিয়ার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা অর্জনের জন্য KMT, TPP এবং দুইজন স্বাধীন আইনসভার সদস্যের সমন্বয়ে যথেষ্ট আসন রয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এখনও বাকি। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ১৯ মে নির্ধারিত ভোটে অভিযোজন অনুমোদিত হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযোজনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবিকভাবে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুতি করা নয়, বরং বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি প্রতীকী প্রতিবাদ রূপে কাজ করা। তারা দাবি করে যে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা সরকারের আইনসভার প্রস্তাবিত আইন কার্যকর না করার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে চায়।
অ্যাকাডেমিয়া সিনিকা’র সংবিধানিক আইন ও গণতান্ত্রিক তত্ত্বের বিশেষজ্ঞ ইয়েন-টু সু উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযোজন তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হতে পারে। তিনি বলেন, যদিও সংবিধানিক আদালতে এই অভিযোজনের অনুমোদন পাওয়া কঠিন, তবু এটি একটি রেকর্ড তৈরি করে যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইয়েন-টু সু আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি প্রেসিডেন্টের প্রতি অপমানের একটি মাধ্যম এবং একই সঙ্গে নির্বাহী শাখা যদি আইনসভার পাস করা আইন কার্যকর না করে তবে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা যায়। তিনি এ বিষয়ে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেন।
লাই চিং-তে ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয়-বাম দিকের ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (DPP) থেকে তৃতীয় ধারাবাহিক মেয়াদে নির্বাচিত হন। তবে তার শাসনকালে আইনসভায় তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলে, ফলে সরকার ও আইনসভার মধ্যে মতবিরোধ বাড়ে।
বছরের শুরু থেকেই বাজেট, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সংবিধানিক আদালতের সদস্য নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আইনসভা ও নির্বাহী শাখার মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে, যা দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না হলে, আইনসভার এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে রয়ে যাবে। তবে বিরোধী দলগুলো দাবি করে যে এই পদক্ষেপটি সরকারের আইনসভার প্রস্তাবিত আইন অগ্রাহ্য করার প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
এই মুহূর্তে আইনসভার সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের মাত্রা উচ্চ, এবং উভয় দিকই ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে তা নিয়ে সতর্ক। বিশেষ করে, যদি আইনসভা ও নির্বাহী শাখার মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে দেশের নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
অভিযোজনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ১৯ মে নির্ধারিত ভোটের জন্য আইনসভার সদস্যদের মধ্যে আলোচনার তীব্রতা বাড়বে। যদিও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না হলে ভোট বাতিল হবে, তবু এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।
বিরোধী দলগুলো এই অভিযোজনকে সরকারের আইনসভার পাস করা আইন কার্যকর না করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তারা দাবি করে যে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা সরকারের প্রতি দায়বদ্ধতা আরোপ করতে চায় এবং ভবিষ্যতে আইনসভার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান বাড়াতে চায়।
সামগ্রিকভাবে, তাইওয়ানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই অভিযোজনের সূচনা গভীর বিভাজন ও বিরোধের প্রতিফলন। যদিও বাস্তবিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদচ্যুতি সম্ভব না হলেও, এই প্রতীকী পদক্ষেপটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



