শহরের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি জি.ই.এর নতুন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করে বলেন, এমন একটি পদ্ধতি গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো যুবক বেকার থাকবে না।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, কিছু দল সংখ্যা গুনে কর্মসংস্থান ও ভাতা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবে তিনি জোর দেন যে দেশের তরুণদের বেকার ভাতা গ্রহণের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তার মতে, প্রত্যেককে দেশের উন্নয়নের কাজে যুক্ত করা এবং তাদের হাতে কাজের সুযোগ প্রদানই মূল লক্ষ্য।
তিনি তিনটি শর্ত উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল এই শর্ত পূরণ করলে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করা সম্ভব। প্রথম শর্ত হল দুর্নীতি না করা এবং দুর্নীতিবাজকে কোনো রকম সমর্থন না দেওয়া। দ্বিতীয় শর্তে সমাজের সব স্তরে সমান বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ না রাখা অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় শর্তে সংস্কারের সব সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
শিবিরের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে শফিকুর রহমান ব্যাখ্যা করেন, আজকের শিবির শুধুমাত্র একটি ছাত্রসংগঠন নয়; ১৯৭১ সালের বিপ্লবের পর ছাত্রসমাজের স্বীকৃতি পেয়ে তাকে একটি ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিবির এখন ছাত্রসমাজের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবে এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন দিশা নির্ধারণ করবে।
তাঁর মতে, শিবিরের প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর আগে ছাত্রদের হাতে কলম থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু নরমমনা ছাত্রকে বিভ্রান্ত করে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। সেই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ছোট‑ছোট ক্যাম্পে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে মেয়েদের ইজ্জত ও ছাত্রদের ক্যারিয়ার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিল।
শফিকুর রহমান জানান, ঐ কালো অধ্যায় ধীরে ধীরে শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত শিবিরের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সম্মেলনের শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নতুন সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন এবং বর্তমান অগ্রগতি রোধ করার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। পরওয়ারের মতে, শিবিরের লক্ষ্য হল আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামী জনতাকে একত্রিত করা এবং সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
শিবিরের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সংগঠনটি এখনো তার মূল ম্যান্ডেট পালন করে, যা হল ছাত্রদের নৈতিক ও বৌদ্ধিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং তাদেরকে দেশের গঠনমূলক কাজের জন্য প্রস্তুত করা। তারা যুক্তি দেন, শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্বের সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং তা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা কোনো মন্তব্য দেননি, তবে তারা ভবিষ্যতে জামায়াতের শর্তাবলী ও শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করার ইঙ্গিত প্রকাশ করেছেন।
এই অনুষ্ঠানে শিবিরের ইতিহাস, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। শিবিরের সদস্যরা একমত হন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
শফিকুর রহমানের শেষ মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন, কোনো দল যদি দুর্নীতি, অসমতা এবং সংস্কারবিরোধী নীতি না গ্রহণ করে, তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করা সম্ভব। তিনি দেশের যুব প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান।



