ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর – ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা জুমা নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদ থেকে শাহবাগে একটি প্রতিবাদ রেলি শুরু করে। তারা শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে রাস্তায় বসে রোধ স্থাপন করে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীটি ধর্মীয় মসজিদ থেকে বেরিয়ে শাহবাগের প্রধান রাস্তায় পৌঁছে, যেখানে তারা বসে রোডব্লকিং করে। গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে থেমে যায় এবং রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা সম্ভব হয় না।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রোডব্লকিং চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে রাত কাটাতে প্রস্তুত।
শাহবাগ পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, রোডব্লকিং প্রায় ২:৩০ অপরাহ্নে শুরু হয় এবং তখন থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের দায়িত্ব হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শারিফ ওসমান বিন হাদি ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলি হয়। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাদি ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার সময় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও সমর্থকরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রতিবাদকারীরা হাদির হত্যার তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান তদন্তে স্বচ্ছতা ও সময়মতো ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে রোডব্লকিং চালিয়ে যাবে।
অধিকারের দিক থেকে, হাদির হত্যার মামলা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার নজরে রয়েছে। তদন্তকারী দল গুলির স্থান, গুলিবিদ্ধের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা রেকর্ড বিশ্লেষণ করছে। আদালতে মামলার শোনার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।
জনমত গঠনকারী এই প্রতিবাদে শাহবাগের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় শহরের দৈনন্দিন চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে, তবে হাদির পরিবার ও সমর্থকদের জন্য ন্যায়বিচার অর্জনের ইচ্ছা দৃঢ়। রোডব্লকিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে স্থানীয় ব্যবসা ও যাত্রীদের কিছু অসুবিধা স্বীকার করা হলেও, ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তারা জোর দিয়ে বলছে।



