27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরিমাইগ্রেশন ধারণা রিপাবলিকান গোষ্ঠীতে প্রধানধারায় প্রবেশ

রিমাইগ্রেশন ধারণা রিপাবলিকান গোষ্ঠীতে প্রধানধারায় প্রবেশ

রিপাবলিকান পার্টির ওহাইও গভার্নর প্রার্থি ভাইভেক রামাসওয়ামি গত সপ্তাহে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ সম্মেলনে জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিলেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে কোনো নাগরিকের ‘হেরিটেজ’ তার আমেরিকানত্ব নির্ধারণের মানদণ্ড নয়। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রামাসওয়ামি রিমাইগ্রেশন ধারণাকে রিপাবলিকান দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনরায় আলোচনার বিষয় বানিয়েছেন।

রামাসওয়ামি, যিনি ভারতীয় অভিবাসী পিতামাতার সন্তান, নিজের জন্মভূমি ও অভিবাসী পটভূমি তুলে ধরে যুক্তি দেন যে সকল আমেরিকানই সমান অধিকারী, হেরিটেজের ভিত্তিতে কোনো শ্রেণিবিন্যাস অপ্রয়োজনীয়। তার এই মন্তব্য রিপাবলিকান ঘরে হেরিটেজ‑ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বিরোধী একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘রিমাইগ্রেশন’ শব্দটি মূলত স্বেচ্ছায় নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী গোষ্ঠী এই ধারণাকে জোরালোভাবে পরিবর্তন করে, জাতিগত শুদ্ধিকরণ ও জনসংখ্যা হ্রাসের একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই রূপান্তর রিমাইগ্রেশনকে কেবল স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন নয়, বরং জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি হিসেবে পুনর্গঠন করেছে।

অতীতের তুলনায় রিমাইগ্রেশন এখন রিপাবলিকান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম বছরের শেষ সপ্তাহে এই ধারণা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, যেখানে পার্টির কিছু গোষ্ঠী এটিকে ভোটার ভিত্তি পুনর্গঠনের একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করছে।

এই বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট রিমাইগ্রেশন নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালু করেছিল। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি, তবে এই পদক্ষেপটি রিমাইগ্রেশনকে সরকারি নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

কয়েক মাস পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে রিমাইগ্রেশনকে সমর্থনকারী পোস্ট প্রকাশিত হয়। এতে রিমাইগ্রেশনকে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যদিও বিস্তারিত নীতি এখনও প্রকাশিত হয়নি।

রিমাইগ্রেশন ধারণা কেবল আমেরিকায় সীমাবদ্ধ নয়; ইউরোপের ডানপন্থী নেতৃবৃন্দও সাম্প্রতিক সময়ে এই শব্দটি ব্যবহার শুরু করেছেন। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশীয় পার্টি ও সংগঠন রিমাইগ্রেশনকে তাদের জাতীয় পরিচয় রক্ষার একটি কৌশল হিসেবে তুলে ধরছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

ইতিহাসে রিমাইগ্রেশন ধারণার শিকড় ১৯৩০‑এর শেষের নাৎসি জার্মানিতে পাওয়া যায়। নাৎসি শাসন তখন জার্মানিতে বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য মাদাগাস্কার দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছিল, যা ‘মাদাগাস্কার সমাধান’ নামে পরিচিত ছিল। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এটি রিমাইগ্রেশনকে জাতিগত শুদ্ধিকরণের একটি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করার প্রাথমিক উদাহরণ।

ফরাসি লেখক রেনো ক্যামুসের ২০১১ সালের ‘লে গ্রাঁ রিমাপ্লাসমাঁ’ (Le Grand Remplacement) বইটি রিমাইগ্রেশন ধারণাকে আধুনিক রূপ দিয়েছে। ক্যামুসের তত্ত্বে তিনি দাবি করেন যে পশ্চিমা দেশগুলোতে শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানদের পরিবর্তে অ-শ্বেতাঙ্গ, প্রধানত মুসলিম, অভিবাসীরা ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করছে, যা তিনি ‘প্রতিস্থাপন জেনোসাইড’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই তত্ত্বের ভিত্তিতে রিমাইগ্রেশনকে জোরপূর্বক জনসংখ্যা পরিবর্তনের একটি উপায় হিসেবে পুনর্বিবেচনা করা হয়।

ক্যামুসের তত্ত্ব ইউরোপ ও আমেরিকায় ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তারা রিমাইগ্রেশনকে একটি কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করে, যেখানে অ-শ্বেতাঙ্গ জনগণকে ‘প্রথাগত’ শ্বেতাঙ্গ সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াকে তারা কখনও কখনও ‘জাতিগত শুদ্ধিকরণ’ বা ‘জনসংখ্যা পুনর্গঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে রিমাইগ্রেশনকে রিপাবলিকান পার্টির নীতি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা ভবিষ্যতে ভোটার গোষ্ঠীর পুনর্গঠন, অভিবাসন নীতি কঠোর করা এবং জাতিগত বৈষম্যের নতুন রূপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে এই ধারণা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রিমাইগ্রেশনকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা ইতিমধ্যে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চার করেছে।

পরবর্তী ধাপে রিমাইগ্রেশনকে আইনগত কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নীতি নথি প্রকাশ এবং জনমত গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রিমাইগ্রেশনকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে এবং কোন সীমারেখা নির্ধারণ করা হবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments