ঢাকা মহানগর উত্তর অঞ্চলে ২৬ ডিসেম্বর, বিএনপি জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (প্রস্থ ৩০০ ফুট), বিমানবন্দর সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দলটি সমাবেশের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো পুনরায় রোপণের পরিকল্পনা জানায়।
বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক এই উদ্যোগের মূল ঘোষক। তিনি বলেন, সমাবেশে অংশগ্রহণকারী কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিককে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। হক আরও উল্লেখ করেন, গাছের পুনরায় রোপণ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে যাতে পরিবেশগত ক্ষতি কমে এবং শহরের সবুজায়ন বজায় থাকে।
আজ সকাল থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কাজ শুরু করে। তারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্লাস্টিক, কাচের টুকরা, ধাতব ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদি সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করে। কাজের সময় কর্মীরা নিরাপত্তা গিয়ার ব্যবহার করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি বিএনপির ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম বৃহৎ জনসমাবেশের পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৭ বছর পর দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারসহ দেশে ফিরে আসার পর, দলের ফেসবুক পেজে জানানো হয় যে সমাবেশের সময় এক্সপ্রেসওয়ে ও বিমানবন্দর এলাকার আশেপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আবর্জনা জমা হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, এই বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে জনস্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিএনপি এই উদ্যোগকে তাদের জনসেবা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দলীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, গাছের পুনরোপণ কাজটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সম্পন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে এমন বড় সমাবেশের সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করা হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী সংস্থা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনও এই উদ্যোগের উপর কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন সংক্রান্ত চলমান আলোচনায় এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে।
বিএনপি এই পদক্ষেপকে আসন্ন নির্বাচনী সময়ে জনমত গঠনে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদিও দলটি সরাসরি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, স্বেচ্ছাসেবী পরিচ্ছন্নতা ও গাছ রোপণ কার্যক্রমের সফলতা দলের জনসেবার ইমেজকে শক্তিশালী করতে পারে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে পারে।
বিএনপি দলের এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, বর্জ্য অপসারণের কাজের সমাপ্তি এবং গাছ রোপণের প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। দলটি জানিয়েছে, রোপণকৃত গাছের যত্ন নেওয়ার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, বিএনপি কর্তৃক চালু করা পরিচ্ছন্নতা ও গাছ রোপণ অভিযানটি শহরের পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে একটি প্রো-অ্যাকটিভ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে দলটি জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছে, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।



