28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাপান সরকার ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন

জাপান সরকার ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন

জাপানের ক্যাবিনেট ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া আর্থিক বছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার) রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে বাড়তে থাকা উত্তেজনা মোকাবেলায় সামরিক ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।

বাজেটটি ১২২.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৮৪ বিলিয়ন ডলার) মোট জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিত। পূর্বে অনুমোদিত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার চতুর্থ বছর হিসেবে এই বৃদ্ধি, জিডিপির ২ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করে।

পঞ্চবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপান ২ শতাংশ জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং এই বছর পর্যন্ত তা পূরণের পথে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, মার্চের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হবে। এই আর্থিক পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে দুই বছর আগে লক্ষ্য পূরণে ত্বরান্বিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকারিচি নভেম্বর মাসে চীন যদি তাইওয়ানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানের সশস্ত্র বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য চীনের সরকারকে বিরক্ত করে, যা জাপানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে ধাবিত হয়।

পাঁচ বছরের প্রতিরক্ষা গঠন পরিকল্পনা অনুসারে, জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশ হিসেবে অবস্থান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অবস্থান দেশকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে বাধ্য করবে।

দশেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে জাপান তার বিদ্যমান নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্বিবেচনা করে নতুন নীতি প্রণয়ন করবে, যা সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এই সংস্কারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের নিরাপত্তা জোটকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান দীর্ঘ দূরত্বের লক্ষ্যবস্তু আক্রমণের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের স্ব-রক্ষার সীমাবদ্ধতা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এই পরিবর্তনটি দেশের সামরিক কৌশলে নতুন দিক যোগ করেছে এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০২২ সালে গৃহীত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল চীনের ওপর সর্বোচ্চ কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের কাঠামোর মধ্যে সামরিকের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করে। এই নীতি জাপানের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে।

নতুন বাজেটের মধ্যে ৯৭০ বিলিয়ন ইয়েনের বেশি অর্থ ‘স্ট্যান্ডঅফ’ ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৭ বিলিয়ন ইয়েন দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত, যা স্বদেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করবে।

এই আর্থিক পদক্ষেপের ফলে জাপান আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে তার অবস্থান পুনর্গঠন করবে এবং চীন-তাইওয়ান বিষয়ক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করবে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নীতি সংস্কারের ফলাফল জাপানের নিরাপত্তা নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments