28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিউত্তর কোরিয়া পাঁচ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাবে, কিম জং উন...

উত্তর কোরিয়া পাঁচ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাবে, কিম জং উন ঘোষণা

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র মাধ্যমে জানিয়েছেন যে দেশটি আগামী পাঁচ বছর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে। তিনি এই সিদ্ধান্তটি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে কিম জং উন দেশের প্রধান অস্ত্র কারখানাগুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন খাতকে জাতীয় নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনের সময় কিম জং উন কিছু আধুনিকায়ন পরিকল্পনার খসড়া নথি অনুমোদন করেন। এই নথিগুলোতে উৎপাদন সুবিধার প্রযুক্তিগত আপগ্রেড, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন এবং নতুন পরীক্ষামূলক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্তি উল্লেখ আছে।

একদিন আগে, কিম জং উন তার কন্যা সহ ৮,৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেন। এই সাবমেরিনটি উত্তর কোরিয়ার সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

সাবমেরিন পরিদর্শনের পাশাপাশি দেশটি দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও পরিচালনা করেছে। পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকল্পনা দেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

কিম জং উনের এই ঘোষণার পেছনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে দেশীয় স্বনির্ভরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বতন্ত্র অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপগুলোকে প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করছে। সরকারী বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

কেসিএনএ-র তথ্য অনুসারে, আধুনিকায়ন নথিগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ানো, নতুন উপাদান ব্যবহার এবং গুণগত মানের উন্নতি অন্তর্ভুক্ত। এসব পরিবর্তন উৎপাদন খরচ কমিয়ে দক্ষতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের নির্মাণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর রয়েছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতি উত্তর কোরিয়ার সামুদ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার ফলাফল সরকারী সূত্রে ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে। পরীক্ষার পরিসর ও সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি দেশের রকেট প্রযুক্তির অগ্রগতির সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকল্পনা কীভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। তারা উল্লেখ করছেন, দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন পরিকল্পনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার জটিলতা বাড়াতে পারে।

সারসংক্ষেপে, কিম জং উনের ঘোষণায় দেখা যায় উত্তর কোরিয়া পরবর্তী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সাবমেরিন উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই কৌশল দেশীয় স্বনির্ভরতা ও সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments