বিএনপি চেয়ারপার্সন ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, ফলে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না। ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক বিবেচনা করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের মন্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।
অনুমোদনকারী নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গৃহীত হবে। কমিশনার উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তা দুটোই সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে কোনো ঝুঁকি না থাকে।
ভোটার নিবন্ধনের স্থান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; তা গুলশানের বাড়ি থেকে করা হবে নাকি নির্বাচনী অফিসে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। কমিশনার জানান, উভয় সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে ভোটার নিবন্ধনের স্থান সম্পর্কে জানানো হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পূর্বে জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। তবে তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে ভোটার হওয়া সম্ভব না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিল, ফলে এখন ভোটার নিবন্ধনের পদ্ধতি ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমান ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় তিনি ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ইতিহাসে অনুরূপ একটি উদাহরণ রয়েছে; ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। কমিশনের সূত্রে বলা হয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে তারেক রহমানও একই পদ্ধতিতে ভোটার হতে পারেন।
১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত অবস্থার পর দেশে ফিরে তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যদিও পরিকল্পনার বিশদ প্রকাশ না করা হলেও তিনি দেশের সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ফিরে আসার পর তিনি ঢাকার তিনশ ফুট এলাকার সংবর্ধনা মঞ্চে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই পদক্ষেপের ফলে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। ভোটার নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ায় তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, যা পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা ও সমর্থক গোষ্ঠীর মনোভাবকে প্রভাবিত করবে।
অন্যদিকে, দেশের শাসক দল আওয়ামী লীগও এই উন্নয়নকে নজরে রাখবে, কারণ নির্বাচনী প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি প্রধান দলের কৌশলগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটার নিবন্ধনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে যে, তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার পথে কোনো আইনি বাধা থাকবে না। এই পরিস্থিতি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলবে।



