পোল্যান্ডের বিমানবাহিনী বৃহস্পতিবার সকালে বাল্টিক সাগরের আন্তর্জাতিক জলে রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা বিমানকে শনাক্ত করে, তার সীমান্তের নিকটে উড়ে যাওয়ার সময় আটক করে। একই সময়ে, পূর্বের রাতে বেলারুশিয়া থেকে দিক পরিবর্তন করে আসা অজানা বস্তুর সনাক্তকরণে পোলিশ রাডার সিস্টেম সক্রিয় ছিল, যা সাময়িকভাবে দেশের উত্তর-পূর্বের বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য করে।
পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডের এক প্রকাশে বলা হয়েছে, ফাইটার জেটগুলো দৃশ্যমানভাবে রাশিয়ান গোয়েন্দা বিমানকে চিহ্নিত করে, তাকে অনুসরণ করে নিরাপদে পোল্যান্ডের দায়িত্বের এলাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক নৌসীমার উপরে সম্পন্ন হয় এবং পোলিশ কর্তৃপক্ষের এয়ারস্পেস সুরক্ষার নীতি অনুযায়ী নেওয়া হয়।
গত রাতের রাডার রেকর্ডে দেখা গিয়েছে, বেলারুশিয়া দিক থেকে বহু অজানা বস্তু পোল্যান্ডের দিকে এগিয়ে আসছে। এই বস্তুগুলোকে ‘অজানা অবজেক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাময়িকভাবে উত্তর-পূর্বের বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়।
অপারেশনাল কমান্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অজানা বস্তুগুলো সম্ভবত বেলুন, যা বায়ু প্রবাহের দিক ও গতি অনুসরণ করে চলাচল করছে। রাডার সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের চলাচল ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তবে বেলুনের সংখ্যা বা আকার সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কমিশের এক সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনাগুলো পোল্যান্ডের নিরাপত্তার জন্য তাত্ক্ষণিক হুমকি নয় এবং তিনি প্রায় ২০,০০০ সৈন্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যারা ছুটির দিনেও দেশের সুরক্ষায় তৎপর। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন, বাল্টিক সাগর ও বেলারুশিয়া সীমান্তে ঘটিত সব প্রভোকেশন সম্পূর্ণভাবে পোলিশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বেলারুশ এবং রাশিয়ার ওয়াশিংটন দূতাবাসগুলো রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দেয়নি, ফলে এই ঘটনার কূটনৈতিক দিক থেকে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
বেলারুশিয়া থেকে উড়ে আসা এই ধরনের বেলুন পূর্বে লিথুয়ানিয়ার আকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিমানবন্দরগুলোকে অস্থায়ীভাবে টেকঅফ ও ল্যান্ডিং বন্ধ করতে হয়েছে। এই প্রকারের অস্বাভাবিক বায়ু চলাচল আঞ্চলিক বিমান চলাচলকে প্রভাবিত করে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থার নজরে আসে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, বেলারুশিয়া ও রাশিয়ার এই ধরনের এয়ারস্পেসে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে পোল্যান্ডের দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া তার সামরিক প্রস্তুতি ও নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। তিনি আরও যোগ করেন, ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে পোল্যান্ডের এয়ার ডিফেন্স ক্ষমতা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে ন্যাটো সমাবেশে এই ধরনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন, যাতে সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে এয়ারস্পেস পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল শক্তিশালী করতে পারে। পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে রাডার ও ইন্টারসেপ্টর নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণে অগ্রগতি চালিয়ে যাচ্ছে, যা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, পোল্যান্ডের বিমানবাহিনী রাশিয়ান গোয়েন্দা বিমানকে সফলভাবে আটক করেছে এবং বেলারুশিয়া থেকে আসা সন্দেহজনক বেলুনগুলোকে স্মগলিং হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও কোনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি চিহ্নিত হয়নি, তবে এ ধরনের এয়ারস্পেসে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে সতর্কতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।



