সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রশিক্ষণ সেশনের সময় দলীয় কোচ খালেদ মাহমুদ এবং সহকারী তলহা দুজনেই হঠাৎ করে মাঠ ছেড়ে যান। দলটি বেসামরিক লীগ (বিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে সেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাটিং ও বোলিং বলের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় পরিচালনায় ত্রুটি প্রকাশ পায়। এই পরিস্থিতি কোচ ও সহকারীর মধ্যে তীব্র মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খালেদ মাহমুদ, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন, বর্তমানে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দলকে উচ্চমানের প্রস্তুতি দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তলহা, যিনি কোচিং স্টাফের অংশ, তারাও একই লক্ষ্য ভাগ করে নিয়েছিলেন।
প্রশিক্ষণ সেশনের সূচি অনুযায়ী ব্যাটিং ও বোলিং দু’ধরনের বল যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করা উচিত ছিল, তবে স্টেডিয়ামের সরবরাহকারী পর্যাপ্ত বল না পৌঁছানোর ফলে সেশনটি বাধাগ্রস্ত হয়। স্টাফের দৃষ্টিতে এই ঘাটতি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা কোচদের কাজের পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছিল।
এই পরিস্থিতিতে তলহা প্রথমে তার অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং সেশন থেকে বেরিয়ে যান। খালেদ মাহমুদও একই সময়ে প্রশিক্ষণ মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে দুজনেই একসঙ্গে প্রশিক্ষণ এলাকা ত্যাগ করেন। তাদের এই পদক্ষেপটি দলের অন্যান্য সদস্য ও স্টাফের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
দলীয় ব্যবস্থাপনা ও লিগের কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। তারা সমস্যার মূল কারণ—প্রয়োজনীয় বলের ঘাটতি—নির্ণয় করে এবং সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত বল সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে কোচ ও সহকারীর সঙ্গে আলাপ করে তাদের উদ্বেগ শোনা হয় এবং সমাধানের পথ খোঁজা হয়।
হস্তক্ষেপের পর, খালেদ মাহমুদ ও তলহা পুনরায় প্রশিক্ষণ সেশনে ফিরে আসেন। অতিরিক্ত বলের ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ায় সেশনটি স্বাভাবিকভাবে চালু হয় এবং খেলোয়াড়রা তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যায়। কোচিং স্টাফের মতে, এই ঘটনার পর দলটি পুনরায় একত্রিত হয়ে কাজের গতি বজায় রাখবে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই ঘটনার সময়সূচি অনুসারে, দলটি শীঘ্রই চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে। উভয় দলই এই মৌসুমে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্যে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং কোচিং স্টাফের সাম্প্রতিক সংঘাতের পরেও দলটি প্রস্তুতিতে কোনো ধাপ পিছিয়ে যাবে না বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দলীয় ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের সরবরাহজনিত সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা বল সরবরাহ চেইনের পর্যবেক্ষণ বাড়াবে এবং প্রশিক্ষণ সেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ আগে থেকেই নিশ্চিত করবে।
বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে দলটি কৌশলগত পরিবর্তন ও মানসিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে, যাতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করা যায়।
এই ঘটনার পর দলীয় মনোভাব স্থিতিশীল হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক পথে ফিরে এসেছে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ভক্তরা দলকে সমর্থন জানিয়ে আশা প্রকাশ করছেন যে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যার পরেও দলটি লিগের শীর্ষে পৌঁছাবে।



