গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার সময়, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় সাড়ে চারটায় নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আরিকোলা রেলস্টেশন অতিক্রম করছিল। রেললাইন ধরে বাড়ি ফেরার পথে তিনজন পথচারী ট্রেনের শব্দ শুনতে না পেয়ে ট্রেনের পেছন দিক থেকে ধাক্কা খেয়ে মারা যায়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
রেলপথটি টঙ্গি-ভৈরব রেলপথের আরিকোলা রেলস্টেশন সংলগ্ন, যেখানে রেলব্রিজ ও দেয়ালটেকের মাঝখানে পথচারীরা প্রায়ই বাড়ি ফেরার জন্য হেঁটে যেতেন। স্থানীয় সূত্রের মতে, ওই সময়ে ট্রেনটি গতি বাড়িয়ে চলছিল এবং পথচারীরা ট্রেনের সিগন্যাল শোনার সুযোগ পাননি। রেললাইন থেকে দূরে কোনো সুরক্ষা বেড়া বা সতর্কতা চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও রেলওয়ে কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে পরিবারকে জানানো হবে। মৃতদেহের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের রেলওয়ে বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে এবং রেললাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রেনের গতি ও সিগন্যাল সিস্টেমের কোনো ত্রুটি না থাকলেও, রেললাইন পাশে অপ্রয়োজনীয় পায়ে হেঁটে যাওয়া অবৈধ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে। তাই, রেলওয়ে বিভাগ ভবিষ্যতে রেললাইন পার্শ্ববর্তী এলাকায় সুরক্ষা বেড়া স্থাপন এবং সতর্কতা চিহ্ন বসানোর পরিকল্পনা করেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে ফার্মার (FIR) দায়ের করে এবং সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রেনের ড্রাইভার, রেলওয়ে সিগন্যাল অপারেটর এবং রেলস্টেশন কর্মীদের বিবৃতি নেওয়া হবে। এছাড়া, রেলওয়ে রেকর্ডিং ডিভাইস থেকে ট্রেনের গতি ও সিগন্যালের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, রেললাইন পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবৈধভাবে হেঁটে যাওয়া এবং ট্রেনের সিগন্যাল শোনার জন্য যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া দুর্ঘটনার দায়িত্ব বাড়াতে পারে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, রেললাইন পার্শ্ববর্তী এলাকায় অননুমোদিত পায়ে চলাচল করা অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্ত



