সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নোয়াখালি এক্সপ্রেসের প্রশিক্ষণ সেশনে দলীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ এবং খেলোয়াড় তালা দুজনই সেশন থেকে বেরিয়ে যান। দুজনেরই প্রত্যাহারের মূল কারণ ছিল অনুপযুক্ত সরঞ্জাম সরবরাহ, বিশেষত পর্যাপ্ত ব্যাটিং বলের অভাব।
খালেদ মাহমুদ, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং বর্তমানে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন, প্রশিক্ষণ সেশনের মাঝখানে দলীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার অসন্তোষ প্রকাশ করে সেশন থেকে বেরিয়ে যান। তার পদত্যাগের পেছনে মূল অভিযোগ ছিল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বলের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়া, যা খেলোয়াড়দের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে বাধা সৃষ্টি করছিল।
তালাও একই সময়ে সেশনের পরিবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল থেকে বেরিয়ে যান। তালা, যিনি দলের মূল খেলোয়াড়দের একজন, বলের ঘাটতি এবং প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার অস্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রত্যাহার কোচের সঙ্গে মতবিরোধের সূচক হয়ে ওঠে।
প্রশিক্ষণ সেশনের সময় পর্যাপ্ত বল না থাকায় খেলোয়াড়দের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং অনুশীলন সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়টি দলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথভাবে সমাধান না হওয়ায় কোচ এবং খেলোয়াড় উভয়েরই অসন্তোষ বাড়ে। সেশনের মাঝখানে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দুজনই সেশন ত্যাগ করেন।
প্রশিক্ষণ সেশনের পরপরই দলীয় ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপের পদক্ষেপ নেন। তারা বলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য অতিরিক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা করেন এবং কোচ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করেন। এই হস্তক্ষেপের ফলে খালেদ মাহমুদ এবং তালা উভয়েই পুনরায় প্রশিক্ষণে ফিরে আসেন।
হস্তক্ষেপের পর কোচ খালেদ মাহমুদ আবার মাঠে ফিরে এসে দলের প্রস্তুতি পুনরায় শুরু করেন। তিনি বলের যথাযথ সরবরাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার কথা জানান। তালা, যিনি পুনরায় সেশনে যোগ দেন, তিনি বলের ঘাটতি দূর হওয়ায় প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনার পর দলের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে যে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে। এছাড়া, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগের স্বচ্ছতা বাড়াতে নিয়মিত মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের পরবর্তী ম্যাচটি চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছে। দলটি এই ঘটনার পর দ্রুত প্রস্তুতি পুনরায় গড়ে তুলতে চায় এবং মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। কোচের প্রত্যাবর্তন এবং হস্তক্ষেপের ফলে দলীয় মনোবল পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এই ঘটনার পর দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধার উন্নয়নে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা বলের সরবরাহ, মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে নতুন নীতি প্রণয়ন করবে।
সারসংক্ষেপে, সিলেটের প্রশিক্ষণ সেশনে সরঞ্জাম ঘাটতির কারণে কোচ খালেদ মাহমুদ ও খেলোয়াড় তালা দুজনই সেশন ত্যাগ করেন, তবে দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে দুজনই ফিরে আসেন এবং দলীয় প্রস্তুতি পুনরায় শুরু হয়। এই ঘটনা দলীয় ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।



