বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম সংস্করণ আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সিলেট টাইটানসের মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, যা লিগের প্রথম গেম হিসেবে নির্ধারিত।
নতুনভাবে গৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, যার প্রধান হলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সংগঠনগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। সম্প্রচার, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত কাজ চালু হয়েছে, তবে কিছু ফাঁক এখনও রয়ে গেছে।
এই মৌসুমে পরবর্তী পাঁচ সিজনের জন্য ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি বরাদ্দ করা হয়েছে। ১২ বছর পর আবার খেলোয়াড়দের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পূর্বের সংস্করণে অনুপস্থিত ছিল। নিলামের আগে কিছু খেলোয়াড়কে পূর্বের মৌসুমে জালিয়াতি সন্দেহের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থপ্রদান সংক্রান্ত নীতিতে কঠোরতা আনা হয়েছে। অংশগ্রহণ ফি এবং ব্যাংক গ্যারান্টি এখন বাধ্যতামূলক, যা পূর্বে প্রায়শই উপেক্ষা করা হতো। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য অতীতের আর্থিক বিরোধ এড়িয়ে চলা।
জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা উদ্বেগও উত্থাপিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের কারণে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের আগের দিনই একটি নতুন বিতর্ক দেখা দেয়। চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস লিমিটেড আর্থিক সমস্যার কারণে দল ত্যাগ করে, ফলে বোর্ড সরাসরি দলটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অন্যদিকে, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফ প্রশিক্ষণ সুবিধা ও সরঞ্জামের অভাবের কারণে এক অনুশীলন সেশনের সময় সাময়িকভাবে বিরতি দেয়। এই প্রতিবাদটি দ্রুতই সমাধান করা হয়, যদিও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিএপিএল-এর এই সংস্করণে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ম্যাচের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে মাঠের ভিতরের নিরাপত্তা পর্যন্ত সব স্তরে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
প্রচার সংক্রান্ত দিকেও নতুন পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভক্তরা সহজে ম্যাচ দেখতে পারে।
লিগের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ ফি সময়মতো প্রদান এবং ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিবর্তনগুলো সত্ত্বেও, কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আর্থিক সমস্যার কারণে দলটি পরিচালনা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
বিএপিএল ১২-এর উদ্বোধনী ম্যাচের পরপরই পরবর্তী ম্যাচের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সিলেট টাইটানসের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে ঢাকা ডায়নামো, আর রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পরের ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
লিগের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা, আর্থিক এবং সংগঠনগত বিষয়গুলো সমাধান করা হবে বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই মৌসুমে ক্রিকেটের উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে।



