জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম‑১৬ (বংশখালী) নির্বাচনী প্রার্থীর পদধারী মি. আরশাদুল হক, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে পার্টি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি গতকাল ফেসবুকে পোস্ট করে সব পদ থেকে সরে যাওয়ার এবং আরসিপি‑এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম‑১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেন।
আর্সাদুল হক এনসিপি চট্টগ্রাম শহর ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং কেন্দ্রীয় স্তরে যৌথ সদস্য সচিবের দায়িত্বেও ছিলেন। পার্টির শহর ইউনিটের সহ‑সমন্বয়ক আরিফ ময়নুদ্দিন তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান।
হক জানান, এনসিপি‑তে যোগদানের সময় যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি পার্টির বর্তমান দিকনির্দেশনা ও তার পূর্বের ঘোষিত পথের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে, হক এনসিপি‑এর জামায়াত‑ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনকে সমালোচনা করেন। তিনি চান এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করুক, অন্য কোনো জোটের ওপর নির্ভর না করে। এই বিষয়টি তাকে পার্টি থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে।
হক আরও উল্লেখ করেন, জুলাই বিদ্রোহের পর যে নতুন রাজনৈতিক চুক্তি গড়ে তোলার কথা ছিল, তা পার্টি নেতৃত্ব পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, হাজারো শহীদ ও অসংখ্য আহতের ত্যাগের পরও এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আরশাদুল হক বংশখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এনসিপি‑এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্তরে যৌথ সদস্য সচিবের দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের স্থানীয় ভিত্তি ও শিক্ষাগত পটভূমি দ্বারা গড়ে উঠেছে।
হক তার পদত্যাগের দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উল্লেখ করেন যে, একই দিনে বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন। হক এই দিনটিকে “বিশেষ দিন” বলে পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
প্রাক্তন নেতা ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজকে বিভক্ত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়কে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করার প্রবণতাকে হক সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এমন কৌশলগুলো দেশের ঐক্য ও ঐতিহাসিক সত্যকে ক্ষুণ্ন করে।
হক আরও সতর্ক করেন, স্বার্থপর গোষ্ঠী ও স্বার্থপর স্বার্থের পেছনে লুকিয়ে থাকা শক্তিগুলো দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি এই ধরনের চালচলনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
এই পদত্যাগ এনসিপি’র নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। পার্টি এখন চট্টগ্রাম‑১৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সীট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা বাড়াতে পারে। হকের প্রস্থান পার্টির সংগঠন ও ভোটার ভিত্তিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আরশাদুল হকের পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সূচিত করেছে। এনসিপি কীভাবে এই শূন্যস্থান পূরণ করবে এবং অন্যান্য দলগুলো কীভাবে এই সুযোগকে কাজে লাগাবে, তা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



