28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যপরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে আর্থিক ও কর্মী ঘাটতি, গর্ভনিরোধক সরবরাহ সংকটে

পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে আর্থিক ও কর্মী ঘাটতি, গর্ভনিরোধক সরবরাহ সংকটে

দেশের পরিবার পরিকল্পনা উদ্যোগে আর্থিক তহবিলের ঘাটতি এবং কর্মী সংকটের ফলে গর্ভনিরোধক সামগ্রীর সরবরাহে গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কনডোমের স্টক দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা আগামী বছরের শুরুর দিকে এক মাসেরও বেশি সময়ের জন্য বিতরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দিক্টরেট জেনারেল অফ ফ্যামিলি প্ল্যানিং (DGFP) জানিয়েছে, বর্তমান মজুদ মাত্র ৩৯ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

এই সংকটের সময়ে দেশের মোট ফার্টিলিটি রেট (TFR) প্রথমবার ৫০ বছরের পর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সরকারি ও স্বতন্ত্র বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, গর্ভনিরোধকের ঘাটতি যদি অব্যাহত থাকে তবে TFR আরও বাড়তে পারে।

একটি সাম্প্রতিক জাতীয় সমীক্ষা দেখিয়েছে, গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার এবং আধুনিক গর্ভনিরোধকের প্রাপ্যতা উভয়ই হ্রাস পেয়েছে, যা TFR বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, গর্ভনিরোধক ব্যবহারকারী বয়স ১৫-৪৯ বছরের বিবাহিত নারীর শতাংশ ২০১৯ সালের ৬২.৭% থেকে কমে ৫৮.২% হয়েছে।

আধুনিক গর্ভনিরোধকের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা ২০১৯ সালের ৭৭.৪% থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে ৭৩.৫% এ নেমে এসেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো গর্ভনিরোধক সরবরাহের ঘাটতি এবং ব্যবহারকারীর চাহিদার মধ্যে ফাঁককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

১৯৭৫ সালে TFR ৬.৩ থেকে ২০১২ সালে ২.৩ এ নামিয়ে আনার জন্য সরকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ২০১২ সালের জনসংখ্যা নীতি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে TFR ২.১ এ নামিয়ে আনতে এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহার হার ৭২% পর্যন্ত বাড়াতে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল।

তবে, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত TFR প্রায় এক দশক ধরে স্থবির অবস্থায় রয়ে গেছে। এই সময়ে গর্ভনিরোধক সরবরাহের সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, যা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫ অনুসারে, TFR আবার ২.৪ এ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বের ২.৩ থেকে একটি ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে, গর্ভনিরোধক ব্যবহারকারী নারীর শতাংশ এবং আধুনিক গর্ভনিরোধকের প্রাপ্যতা উভয়ই হ্রাস পেয়েছে।

COVID-19 মহামারীর সময় ২০২০ সালে গর্ভনিরোধকের অপর্যাপ্ত চাহিদা তীব্রতর হয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। মহামারীর ফলে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও আর্থিক সম্পদের পুনর্বণ্টন গর্ভনিরোধক প্রোগ্রামের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্বরিত আর্থিক সহায়তা এবং কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সরকারকে গর্ভনিরোধক সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করে, বিশেষ করে কনডোমের স্টক পুনরায় পূরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অধিকন্তু, আধুনিক গর্ভনিরোধকের প্রাপ্যতা বাড়াতে জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা এবং গ্রামীণ ও নগর উভয় এলাকায় সমানভাবে সেবা পৌঁছানো জরুরি। এতে গর্ভনিরোধক ব্যবহার হার পুনরায় বাড়বে এবং TFR বৃদ্ধির প্রবণতা ধীর হবে।

পরিবার পরিকল্পনা নীতি পুনর্বিবেচনা করে, লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক পরিকল্পনা এবং কর্মী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা উচিত। এভাবে গর্ভনিরোধক সরবরাহের ঘাটতি দূর হয়ে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

অবশেষে, গর্ভনিরোধক সরবরাহের সংকট সমাধানে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বেসরকারি গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনি কি মনে করেন, এই সমস্যার সমাধানে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments