28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুদানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রিএসএফের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রত্যাখ্যান

সুদানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রিএসএফের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রত্যাখ্যান

সুদানের ট্রানজিশনাল সারভাইভাল কাউন্সিলের উপ-চেয়ারম্যান মালিক আগার আইয়ির বৃহস্পতিবার পোর্ট সুদানে সরকারী কর্মকর্তাদের সামনে একটি বিবৃতি দিয়ে রেপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) এর সঙ্গে কোনো চুক্তি বা আলোচনার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দখলদারকে স্বীকৃতি দিয়ে কোনো শান্তি চুক্তি করা সম্ভব নয়; দেশের প্রকৃত শান্তি জনগণ ও সরকারীর নির্ধারিত রোডম্যাপের মাধ্যমে অর্জিত হবে।

বিবৃতি সরকারী সংস্কৃতি, মিডিয়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং একই সময়ে উপ-চেয়ারম্যান পোর্ট সুদানের বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজ্য কর্মকর্তাদের সমাবেশে তার মতামত পুনরায় জোর দেন। তিনি যুদ্ধকে ‘গণতন্ত্র অর্জনের জন্য’ নয়, বরং সম্পদ ও জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তনের জন্য লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এই পরিস্থিতি জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেশের প্রায় তিন বছরের যুদ্ধ শেষের জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। পরিকল্পনায় রিএসএফকে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের জোরপূর্বক দখল করা বিশাল এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। প্রত্যাহারের পর তাদের ক্যাম্পে স্থানান্তর, অস্ত্রবিহীন করা এবং যুদ্ধাপরাধে জড়িত না থাকা সদস্যদের সমাজে পুনঃসংযোজনের ধাপ অন্তর্ভুক্ত।

সরকার ও সুদানীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান অনুযায়ী, রিএসএফের এই শর্তগুলো মেনে চলা না হলে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। রিএসএফের শীর্ষ উপদেষ্টা আল-বাশা তিবিক, যিনি কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান “হেমেদতি” দাগালোয়ের নিকটতম পরামর্শদাতা, এই প্রত্যাহারকে ‘রাজনীতির চেয়ে কল্পনার কাছাকাছি’ বলে খণ্ডন করেন এবং কোনো ভূখণ্ড ত্যাগের ধারণাকে অবাস্তব বলে উল্লেখ করেন।

যুদ্ধের ফলে প্রায় চৌদ্দ মিলিয়ন মানুষ বাধ্যতামূলকভাবে স্থানচ্যুত হয়েছে এবং রিএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিএসএফের সৈন্যরা দারফুরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন নির্যাতন এবং মৃতদেহ দাহের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ গোপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলি এই ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে জানিয়েছে যে, শিকারদের দেহ গোপন করতে দাহ ও সমাধি উভয়ই ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার জাতীয় সংহতি বাড়াতে এবং রিএসএফের সঙ্গে কোনো আলোচনার বদলে সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে চায়। উপ-চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকার রিএসএফকে ‘অধিকারহীন দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

পরবর্তী ধাপে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে উপস্থাপিত পরিকল্পনা অনুযায়ী রিএসএফের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যাহার, ক্যাম্পে স্থানান্তর এবং অস্ত্রবিহীনকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। একই সঙ্গে, যুদ্ধাপরাধে জড়িত না থাকা রিএসএফের সদস্যদের পুনঃসংযোজনের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এইসব ঘোষণার পরও রিএসএফের দৃঢ় অবস্থান এবং যুদ্ধের ধারাবাহিকতা সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। সরকারী পক্ষের দৃঢ় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের সমন্বয়ে কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments