বর্ণার্দো কুইন্টারো, স্পেনের সাইবারসিকিউরিটি পেশাজীবী, তিন দশকের পর একটি পুরনো ম্যালওয়্যারের স্রষ্টা সনাক্ত করার মাধ্যমে গুগলের মালাগা শহরে ইউরোপীয় সাইবার সেন্টার গঠনের পেছনের গল্প উন্মোচন করেছেন।
১৯৯২ সালে, মালাগা পলিটেকনিক স্কুলে প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে কুইন্টারোকে একটি প্রফেসরের নির্দেশে ২৬১০ বাইটের একটি প্রোগ্রামকে লক্ষ্য করে অ্যান্টিভাইরাস তৈরি করতে বলা হয়। একই বছরেই এই প্রোগ্রামটি ক্যাম্পাসের কম্পিউটারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে ‘Virus Málaga’ নামে পরিচিত হয়, যদিও এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক ছিল না।
এই প্রথম চ্যালেঞ্জ কুইন্টারোর মধ্যে কম্পিউটার ভাইরাস ও নিরাপত্তা বিষয়ে গভীর আগ্রহ জাগিয়ে তোলে, যা তাকে পরবর্তীতে ভাইরাস বিশ্লেষণ ও স্ক্যানিং প্ল্যাটফর্ম VirusTotal প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
২০১২ সালে গুগল VirusTotal অধিগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মালাগায় তার প্রধান ইউরোপীয় সাইবারসিকিউরিটি কেন্দ্র স্থাপন করে, ফলে ঐ শহরটি প্রযুক্তি হাবের রূপ নেয়।
এই বছর কুইন্টারো ব্যক্তিগতভাবে সেই অজানা প্রোগ্রামারকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন, স্প্যানিশ মিডিয়াকে সহায়তা চেয়ে এবং মূল কোড পুনরায় বিশ্লেষণ করেন।
কোড পর্যালোচনার সময় তিনি প্রথমে কিছু গোপন স্বাক্ষরের টুকরা আবিষ্কার করেন; পরবর্তীতে অন্য এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সহায়তায় একটি নতুন ভ্যারিয়েন্টে স্পষ্ট চিহ্ন “KIKESOYYO” পাওয়া যায়, যা স্প্যানিশে “Kike soy yo” অর্থাৎ “আমি কিকে” নির্দেশ করে।
কুইন্টারো লিংকডইনে এই ফলাফল শেয়ার করেন, যেখানে পোস্টটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তিনি গুগলে ম্যানেজার পদ থেকে সরে এসে পুনরায় গবেষণা ও পরীক্ষার কাজে মনোনিবেশ করেন, তবে কোম্পানি ত্যাগ করেননি।
৩৩ বছর পর ভাইরাসের স্রষ্টা চিহ্নিত করা দেখায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোটখাটো সমস্যাই কীভাবে বৈশ্বিক সাইবারসিকিউরিটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। গুগলের মালাগা কেন্দ্র এখন গবেষণা, হুমকি বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনা জোর দেয় যে কৌতূহল ও সমস্যার সমাধান করার মানসিকতা ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, এবং ছোট প্রকল্পগুলোও দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কুইন্টারোর ১৮ বছর বয়সের ছাত্র থেকে গুগলের শীর্ষ স্তরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের রূপান্তর দেখায় ব্যক্তিগত আগ্রহ কীভাবে শিল্পের দিগন্তকে পরিবর্তন করতে পারে, এবং মালাগাকে ইউরোপের উদীয়মান টেক হাবের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে তুলেছে।



