27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাজবাড়ীর পাংশায় অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু, সরকার দাবি সাম্প্রদায়িক নয়

রাজবাড়ীর পাংশায় অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু, সরকার দাবি সাম্প্রদায়িক নয়

রাজবাড়ীর পাংশা, কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে বৃহস্পতিবার এক গণপিটুনিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মণ্ডল (সম্রাট নামে পরিচিত) নিহত হন। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে চাঁদা সংগ্রহের তর্কে সংঘর্ষের মাঝখানে গুলি ও মারধর থেকে প্রাণ হারান। একই রাতে, এক যুবককে চাঁদা সংগ্রহের জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

প্রধান উপদেষ্টা অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী, এই দুটো ঘটনার মূল কারণ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফলস্বরূপ সৃষ্ট সহিংসতা। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট এখানে প্রযোজ্য নয় এবং আইনবহির্ভূত কাজের কোনো রূপকে সমর্থন করে না।

অমৃত মণ্ডলকে পূর্বে ২০২৩ সালের হত্যাকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনি বহু গুরুতর অপরাধের সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এই পটভূমি তাকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয় ও অবিশ্বাসের কারণ করে তুলেছিল।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অমৃতের সহযোগী সেলিমকে বিদেশি উৎপাদিত এক পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করে। সেলিমের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলো চাঁদা সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেগুলো অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানো হয়েছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে এবং উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বর্তমানে পুরো ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

কিছু গোষ্ঠী ঘটনাটিকে ধর্মীয় সংঘর্ষের রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে, যা সরকার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছে। সরকার উল্লেখ করেছে, এমন প্রচার সামাজিক ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। তাই, সকলকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করতে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাংশা থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অমৃতের নামের ওপর একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয়েছিল, যা স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অমৃতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে পালিয়ে ছিলেন, তবে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আবার অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন।

হোসেনডাঙ্গা গ্রামে ঘটিত অন্য এক হত্যাকাণ্ডে, এক যুবককে চাঁদা সংগ্রহের জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এই যুবককে ‘সম্রাট বাহিনীর’ সদস্য বলে চিহ্নিত করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুইটি অস্ত্রসহ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত আটকে থাকা দুইজন সন্দেহভাজনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র উন্মোচন করতে কাজ করছে। সরকার সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসাথে কাজ করে অপরাধমূলক গোষ্ঠীর কাঠামো ভেঙে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে পদক্ষেপ নেবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments