27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকতাঞ্জানিয়ার কিলিমাঞ্জারোতে মেডিকেল হেলিকপ্টার ধসে ৫ জনের মৃত্যু

তাঞ্জানিয়ার কিলিমাঞ্জারোতে মেডিকেল হেলিকপ্টার ধসে ৫ জনের মৃত্যু

তাঞ্জানিয়ার কিলিমাঞ্জারো পর্বতমালার বারাফু ক্যাম্পের নিকটস্থ এলাকায় একটি মেডিকেল উদ্ধার হেলিকপ্টার ধসে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনা বুধবার বিকালে ঘটেছে এবং তৎক্ষণাৎ তাঞ্জানিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান ও রোগী স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল।

রিপোর্ট অনুসারে, ধসে যাওয়া হেলিকপ্টারটি পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন করছিল, যেখানে হাওয়া পরিবর্তনশীল এবং দৃশ্যমানতা কম। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি বারাফু ক্যাম্পের কাছাকাছি অবতরণে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়ে।

দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তাঞ্জানিয়ার একজন গাইড এবং একজন চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা উভয়ই দেশের নাগরিক। তাছাড়া, জিম্বাবুয়ের পাইলট এবং চেক প্রজাতন্ত্রের দুইজন পর্যটকও প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি যাত্রীরা গুরুতর আঘাতের শিকার হলেও তৎকালীন সময়ে উদ্ধার করা হয়।

তাঞ্জানিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

জাতীয় পার্ক কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির গভীর শোক প্রকাশ করে, এবং মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। তারা উল্লেখ করেছে যে, হেলিকপ্টারটি পার্কের মেডিকেল রেসকিউ অপারেশনের অংশ হিসেবে কাজ করছিল, যা পর্যটক ও স্থানীয় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত চালু থাকে।

জিম্বাবুয় সরকার ঘটনাটির প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে এবং তাঞ্জানিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে মৃত পাইলটের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাছাড়া, চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দ্রুত একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে দু’জন নাগরিকের মৃত্যুর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঞ্জানিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তে সহায়তা করার ইচ্ছা জানিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আফ্রিকায় পর্যটন-ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিলিমাঞ্জারো পর্বত প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটককে আকর্ষণ করে, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে কয়েকটি ছোটখাটো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, উচ্চ উচ্চতা, দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং সীমিত অবকাঠামো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলতে পারে।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, তাঞ্জানিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে এই ধরনের মানবিক দুর্যোগে পারস্পরিক সমর্থন ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’দিকের সরকারগুলো ইতিমধ্যে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যেখানে বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা (ICAO) এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে। এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ধসে যাওয়া হেলিকপ্টারের অবশিষ্টাংশ পুনরুদ্ধার এবং ডেটা রেকর্ডার বিশ্লেষণ করা হবে। তাছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া রেকর্ড এবং উড্ডয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ত্রুটি চিহ্নিত করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রাথমিক প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে।

অবশেষে, তাঞ্জানিয়ার পর্যটন শিল্প এই ঘটনার প্রভাব কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সরকার পর্যটন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নির্দেশিকা আপডেট করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটককে আশ্বস্ত করতে নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগগুলো কিলিমাঞ্জারোকে পুনরায় নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও মানবিক মিশনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments