রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নারী বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (WBCL) টি২০ ২০২৫‑২৬ মৌসুমের শেষ ম্যাচে উত্তর জোন দল চূড়ান্ত শিরোপা জয় করে। সেন্ট্রাল জোনকে ১০ উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে দলটি টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জন করে।
উভয় দলই পাঁচটি ম্যাচের পর আট পয়েন্টে সমান অবস্থানে ছিল, ফলে এই ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবে চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল রূপ নেয়। উত্তর জোন প্রথমে মাঠে প্রবেশ করে এবং সেন্ট্রাল জোনের ওপর বলপ্রয়োগের সুযোগ নেয়।
বোলিং দিক থেকে উত্তর জোনের পারফরম্যান্স চমকপ্রদ ছিল। সেন্ট্রাল জোন মাত্র ১৯.২ ওভারে ৫৬ রান করে আটকে যায়, যার ফলে দলটি সম্পূর্ণ আউট হয়ে যায়। এই রেকর্ডেড স্কোর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম কম।
উত্তর জোনের দ্রুতগতি পেসার ফারজানা ইয়াসমিন মেধা মাত্র চার ওভারে ৩ উইকেট নেয় এবং কেবল ৮ রানই ছাড়ে। তার সঙ্গে শোরিফা খাতুন দুইটি উইকেট সংগ্রহ করে, দুজনের সমন্বয় সেন্ট্রাল জোনের ব্যাটিং লাইনআপকে দ্রুত ভেঙে দেয়।
সেন্ট্রাল জোনের ব্যাটিংয়ে একমাত্র দুই অঙ্কের স্কোর অর্জনকারী ছিলেন ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি, যিনি ১৬ ball-এ ১১ রান করেন। অন্য সব খেলোয়াড়ই একক অঙ্কের স্কোরে আটকে থাকে, যা দলকে বড় স্কোর গড়ে তুলতে বাধা দেয়।
উত্তর জোনের ব্যাটিং লাইনআপ শারমিন আক্তার সূপ্তা এবং শামিমা সুলতানা থেকে শক্তিশালী সূচনা পায়। শারমিন ৩২ রান এবং শামিমা ২৭ রান করে, দুজনের সম্মিলিত অবদান দিয়ে দলটি ৭.৫ ওভারে ৫৮ রান ছাড়া কোনো উইকেট হারায় না।
এই দ্রুতগতির রানের পর উত্তর জোন ১০ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে, ফলে শিরোপা নিশ্চিত হয়। ম্যাচের শেষ স্কোর ৫৮/০, যা দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের গৌরব এনে দেয়।
অন্যদিকে, পূর্ব জোন দল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে, কারণ তারা একই দিনের অন্য ম্যাচে দক্ষিণ জোনকে ছয় উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে। এই জয় পূর্ব জোনকে টুর্নামেন্টের শীর্ষ তিনের মধ্যে রাখে।
উত্তর জোনের শোভাবনা মোস্তারী সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে উজ্জ্বল হয়। তিনি পাঁচটি ইনিংসে মোট ২৫৯ রান করে টুর্নামেন্টের শীর্ষে দাঁড়ায়, যা তার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক খেলার শৈলীর প্রতিফলন।
শঞ্জিদা আক্তার মাঘলা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটধারী হিসেবে ৬ ম্যাচে ১১টি উইকেট নেয়। তার স্পিন ও পেসারদের সঙ্গে সমন্বয় দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এই চ্যাম্পিয়নশিপের সমাপ্তি নারী ক্রিকেটের বিকাশে নতুন উদ্যম যোগ করেছে এবং আগামী মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য দলগুলোকে প্রস্তুত করেছে। পরবর্তী সিজনে আরও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা দেশের ক্রীড়া পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।



