27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবড়দিনের আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টানদের ওপর হিন্দু উগ্র গোষ্ঠীর হামলা ও...

বড়দিনের আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টানদের ওপর হিন্দু উগ্র গোষ্ঠীর হামলা ও ভয় দেখানো

বড়দিনের প্রস্তুতি চলাকালীন ভারতের ছয়টি রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হিন্দু উগ্র গোষ্ঠীর আক্রমণ বাড়ছে। চহর-গ্রাম জুড়ে ক্যারল গায়কদের ওপর হিংসা, ক্রিসমাস সাজসজ্জার ধ্বংস, উপাসক ও বিক্রেতাদের হয়রানি এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-অনুমোদিত এবং ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা যায়, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা এবং আসাম সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে একই সময়ে অনুরূপ হিংসাত্মক কাজের তথ্য পাওয়া গেছে। উগ্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত হয়ে ভয় দেখিয়ে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করছে।

ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের একটি শপিং মলে ক্রিসমাসের আলোকসজ্জা ও সান্তা ক্লজের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা বিশেষভাবে নজরে এসেছে। মলের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন লোকের একটি দল গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে সাজসজ্জা নষ্ট করেছে এবং কর্মচারীদের ওপর চিৎকার-চেচামেচি করে হুমকি জানিয়েছে।

মলে কাজ করা একজন কর্মচারী জানান, ভাঙচুরের সময় কিছু নারী কর্মী কান্নায় ডুবে গিয়েছিলেন, কারণ ভিড় তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও হিংসা বাড়িয়ে দেয়। ভিড়ের কিছু সদস্য বারবার জোর দিয়ে বলছিল যে, তারা সান্তা ক্লজের ছবি দেখতে চায় না। এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ কর্মীদের জন্য অপ্রত্যাশিত এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই মলে কাজ করা আরেকজন কর্মচারী উল্লেখ করেন, গোষ্ঠীটি ‘সর্ব হিন্দু সমাজ’ নামে একটি সংগঠন থেকে সমর্থন পেয়েছে এবং তারা ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে ক্রিসমাস উদযাপন বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় রূপান্তরকে ‘ধর্মান্তর’ হিসেবে গন্য করে এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানকে হুমকি হিসেবে দেখায়।

ছত্তিশগড়ের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে ক্যারল গায়কদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, ক্রিসমাস গাছের সজ্জা ভাঙচুর এবং বিক্রেতাদের ওপর হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেরালায় কিছু গির্জা ও ধর্মীয় কেন্দ্রের সামনে হিন্দু উগ্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সশস্ত্র হয়ে উপস্থিত হয়ে উপাসকদের ওপর হুমকি জানায়। এসব ঘটনার পর কিছু বিজেপি নেতার মন্তব্যও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে।

আসামের নলবাড়ি জেলার একটি স্কুলে, হিন্দু উগ্র গোষ্ঠী ‘বজরং দল’ নামে পরিচিত সদস্যরা বড়দিনের প্রস্তুতির সময় স্কুলের সজ্জা ও উপকরণ নষ্ট করে। গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় দোকানে বিক্রি হওয়া উৎসবের সামগ্রী ধ্বংস করে এবং শিক্ষার্থীদের ক্রিসমাস উদযাপন বন্ধের দাবি জানায়। এক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, বজরং দলের কিছু সদস্য নলবাড়ি গ্রাম প্যানিগাঁওয়ের সেন্ট মেরি স্কুলে প্রবেশ করে বড়দিনের অনুষ্ঠান বিরোধী প্রতিবাদ চালায়।

পুলিশের জানানো মতে, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে মোট ১৫ জনের বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উগ্র গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং কিছু রাজনৈতিক সহায়ক অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং ক্রিসমাসের আগে ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

ধর্মীয় নেতারা এই ধরনের হিংসা ও ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করে, সংবিধানের অধিকার রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষকে তৎপরতা দাবি করেছেন। গির্জা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং হিংসা বিরোধী আইন প্রয়োগের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।

আইনি দিক থেকে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হিংসা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘনের অভিযোগে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ অতিরিক্ত সাক্ষী ও ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করছে। আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বড়দিনের পূর্বে এই ধারাবাহিক আক্রমণ ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক শান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, হিংসাত্মক গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা এবং সংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য সকল স্তরের কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments