রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধকে সরাসরি জলদস্যুতা ও ডাকাতির পুনরুজ্জীবন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবরোধের ফলে অন্য দেশের সম্পত্তি চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। জাখারোভা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
মারিয়া জাখারোভা ক্যারিবীয় সাগরে বর্তমান পরিস্থিতি “অনাচার” হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সম্পত্তি চুরির ঘটনা পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের কার্যকলাপকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের অধীনে জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য করা উচিত এবং তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা দরকার। রাশিয়া এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পুনর্বিবেচনা করা হয়।
রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে আহ্বান জানাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। জাখারোভা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের যৌক্তিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে সমন্বয় ঘটলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
মাদুরো সরকারের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনও স্পষ্ট করা হয়েছে। জাখারোভা বলেন, নিকোলাস মাদুরো তার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা রাশিয়া সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। তিনি রাশিয়ার এই সমর্থনকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
এই বিবৃতি রাশিয়ার পূর্ববর্তী অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে, যেখানে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। রাশিয়া এছাড়াও অন্যান্য দেশগুলোর সমর্থন ও সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রাশিয়ার এই নতুন মন্তব্য ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সংলাপের দরজা খুলে দিতে পারে। রাশিয়া আশা করে, ট্রাম্পের বাস্তববাদী নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান উভয় পক্ষের জন্য টেকসই সমাধান তৈরি করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ক্যারিবীয় সাগরে অবরোধের পরিধি ও শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



